সাত মাস বন্ধ থাকার পর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মাত্র ১৪ দিনের জন্য ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বিশেষ সার্ভিসে যাত্রী পরিবহন করবে এমভি মধুমতী। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) একটি মাত্র জাহাজ এই বিশেষ সার্ভিস দেবে। এরপর আবার এর চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। এ নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে যাত্রীদের মাঝে।
দক্ষিণাঞ্চলের উদ্দেশে ঢাকা থেকে এক সময়ে জনপ্রিয় সার্ভিস হিসেবে পরিচিত ছিল প্যাডেল স্টিমার ও জাহাজগুলো। প্রতিদিন এসব সার্ভিসে যাত্রীরা ঢাকা থেকে চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, কাউখালী, হুলারহাট, চরখালী, বড় মাছুয়া, সন্ন্যাসী ও মোরেলগঞ্জের দুর্গম এলাকায় নির্বিঘ্নে যাত্রা ও পণ্য পরিবহন করতে পারত। একসময় খুলনা পর্যন্ত সরকারি সার্ভিস থাকলেও পরে তা গুটিয়ে মোরেলগঞ্জ পর্যন্ত রাখা হলেও বিগত সাত মাস ধরে পুরো সার্ভিস বন্ধ থাকায় হতাশা নেমে আসে এসব রুটের নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে। যাত্রীরা জানান, অন্তত সপ্তাহে এক দিন হলেও এই সার্ভিস থাকলে তাদের ভোগান্তি কমত। বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল নদীতে যাতায়াতে তাদের সরকারি নৌযানের ওপরই ভরসা বেশি।
বিআইডব্লিউটিসি বরিশালের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, ঈদ উপলক্ষে যে সার্ভিস চালু করা হচ্ছে, সেখানে শুধু মধুমতী জাহাজটি ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে পিরোজপুরের বড় মাছুয়া পর্যন্ত চলাচল করবে। ঈদের আগে ১৮ ও ২১ এপ্রিল ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে বড় মাছুয়া এবং ১৯ ও ২৩ এপ্রিল বড় মাছুয়া থেকে বরিশাল হয়ে ঢাকা, আবার ঈদের পরে ২৭ ও ৩০ এপ্রিল ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে বড় মাছুয়া এবং ২৯ ও ৩১ এপ্রিল বড় মাছুয়া থেকে বরিশাল হয়ে ঢাকা পর্যন্ত জাহাজটি যাত্রীসেবা প্রদান করবে। ঢাকা থেকে ১৬১ কিলোমিটার দূরে বরিশাল পর্যন্ত সর্বনিম্ন ভাড়া (তৃতীয় বা সুলভ শ্রেণির যাত্রী ভাড়া) ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি প্রফেসর শাহ্ সাজেদা বলেন, ব্রিটিশ আমলে তৈরি ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার বন্ধ হয়ে গেলে পর্যটকদের পাশাপাশি নিয়মিত যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় সপ্তাহে এক-দুই দিন এই সার্ভিস টিকিয়ে রাখার দাবি জানান।
এদিকে বেসরকারি লঞ্চগুলোর ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে গত ৯ এপ্রিল থেকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষকে বরণ করে নিতে বরিশাল নদীবন্দরকে নতুন রূপে সাজানো হচ্ছে। তবে যাত্রী কম হওয়ায় এই রুটে এবার সর্বোচ্চ ১৩ থেকে ১৪টি লঞ্চ যাত্রীসেবা দেবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
