লালমনিরহাটের পাটগ্রামে চিকিৎসকের অবহেলায় খুকু মনি রায় পম্পা (২৪) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) স্কয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে পম্পার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে নিহতের স্বজনদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করে এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে এই হাসপাতালে গত বছরের ১৪ এপ্রিল এক প্রসূতি ও ২২ জুন এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।
নিহত খুকু মনি রায় পম্পা নীলফামারীর ডিমলা থানার ডাঙ্গারহাট এলাকার তাপস রায়ের স্ত্রী এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের হিতিস চন্দ্র রায়ের মেয়ে।
জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার জোংড়া এলাকার হিতিস চন্দ্র রায়ের মেয়ে পম্পা কয়েকদিন আগে বাবার বাড়িতে আসে। বৃহস্পতিবার সকালে পম্পার প্রসব বেদনা শুরু হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার স্কয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে গেলে চিকিৎসক জরুরি অস্ত্রোপচারের কথা বলে। প্রসূতি ও সন্তানের জীবন রক্ষায় স্বজনরা অস্ত্রোপচারে সম্মত হন। ওইদিন দুপুরে ছেলে সন্তানের জন্ম দেয় পম্পা। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের অবহেলায় কাটা অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এতে পম্পার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রংপুরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে রংপুর নেওয়ার পথে পম্পার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের বহির্বিভাগের চিকিৎসক ডা. এম এইচ শিশির চৌধুরী বলেন, ওই প্রসূতিকে এখানে ভর্তির পর অস্ত্রোপচার করা হয়। কে অস্ত্রোপচার করেছে তা জানি না। তবে, প্রসূতির অবস্থা খারাপ দেখে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে রংপুরে নিতে বলি। পরে শুনেছি রংপুরে নেওয়ার পথে ওই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বামী তাপস রায় বলেন, পম্পা ও তার শিশুর অবস্থা ভালো ছিল। চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। ভালো চিকিৎসক দিয়ে অস্ত্রোপচার করাতে বলেছিলাম। এখন অভিযোগ ধামাচাপা দিতে টাকা দিতে চায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জোংড়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য বিজয় কুমার রায় বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ওই হাসপাতালে গিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই। এ সময় তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা দিতে চায়।
পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা জেনেছি। কে অস্ত্রোপচার করেছে সেই চিকিৎসকের বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
