ফেসবুকে বিদেশি মেয়ে পটানোর ঠাট্টীয় কৌশল

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:০০

g সত্যজিত্ বিশ্বাস

আপনে জিত্তা গ্যাছেন!

অষ্টম ধাপ

যা হওয়ার তা তো আগের ধাপেই হয়ে যাওয়ার কথা। এখানে এসে আবার কী খোঁজেন? যদি না হয়ে যায়? তাহলে আর কী? সপ্তম ধাপেই আবার রি-স্টার্ট দেন। ধৈর্য হারাবেন না। মনে রাখবেন একবার না পারিলে দেখো শতবার। বিজয় সুনিশ্চিত।

সপ্তম ধাপ

এ ধাপ বড়শিতে টোপ গেঁথে যাওয়ার চূড়ান্ত ধাপ। হালকা লুতুপুতু কথা দিয়ে ঘায়েল করার ধাপ। এ ধাপে এসে আপনি তাকে বাংলা শেখানো শুরু করে দেবেন। দুই/একটা সাধারণ বাংলা শব্দ যেমন আমি মানে আই, তুমি মানে ইউ শিখিয়েই তাকে বলেন ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’। সে যখন উত্সাহী হয়ে এর ইংরেজি জানতে চাইবে, কিছু না বলে লজ্জা পাওয়ার ভাব দেখিয়ে দুই/একটা দিন কাটিয়ে দিন। তারপরেও যদি সে উত্সাহ ধরে রাখতে পারে, সেই মহেন্দ্রক্ষণে বলে দিন আমি তোমাকে ভালোবাসির ইংরেজিটা।

চতুর্থ ধাপ

‘শিশু শিশু প্রতি শিশু, বাদ যাবে না কোনো শিশু’ পোলিও দিবসের এ স্লোগানটির মতো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করা প্রতিটি বিদেশিনীর ইনবক্সে ‘Hi Babu, Finish eating?’ মেসেজটা লিখে আসতে হবে। কোনো বাছাবাছি করা যাবে না। এতে সম্ভাবনা কমে যায়। মনে রাখতে হবে, ওই প্রান্তের বিদেশিনীরও কিন্তু একই সুযোগ আছে। চতুর্থ ধাপে এসে যদি কপালে একজনও না জোটে আবার প্রথম ধাপ থেকে শুরু করতে হবে। নতুন নাম, নতুন ভঙ্গিমার ছবি দিয়ে শুরু করতে হবে। তবে ভুলেও অন্য কারো ছবি দেওয়া যাবে না। তাহলে শেষ ধাপ পর্যন্ত এসেও লাভ নেই। বিদেশিনীরা কিন্তু চিটিং জিনিসটা মোটেও পছন্দ করে না। 

পঞ্চম ধাপ

চতুর্থ ধাপ পেরিয়ে কেউ যদি রিপ্লাই দেয়, মোটেও অস্থির হয়ে সাথে সাথে রিপ্লাই করবেন না। দাঁত দাঁত চেপে কিংবা হাতে দাঁত চেপে যেভাবেই হোক পাঁচ মিনিট পার হতে দিতে হবে। ততক্ষণে আপনি বরং গুগুল ট্রান্সলেটরে বাংলা টু ইংরেজি কনভার্টার কাজে লাগিয়ে ‘আমি আসলে খুবই দুঃখিত, গোবর দিয়ে ঘর লেপতে গিয়েছিলাম’ কিংবা ‘আমি আসলে খুবই দুঃখিত, পাশের বাড়ি রং করতে গিয়েছিলাম’ টাইপ মেসেজের ইংরেজিটা দেখে নিতে পারেন। পাঁচ মিনিট হলেই কপি, পেস্ট করে ইনবক্সে দিন। তারপর সরির ইমো দিয়ে বারবার সরি বলে আপনার আন্তরিকতা প্রকাশ করুন। মনে রাখবেন, একমাত্র অন্তরের টানে, এত কাছে আনে।

ষষ্ঠ ধাপ

এ ধাপটাকে মন গলানো ধাপ বলা হয়। ‘বাবু খাইছ’ থেকে শুরু করে ‘বাবু তোমার মাথায় কি উকুন আছে, বেছে দেবো?’ টাইপ কথা চলবে। আসল কথা হলো—বিদেশিনীকে বোঝাতেই হবে, আপনি কতটা কেয়ারিং তার প্রতি। 

প্রথম ধাপ

আপনার আইডিতে আপনার নাম কি বাংলায় লিখেছেন? তাইলে কেমনে কী! এক্ষুনি ইংরেজি, স্প্যানিস, চাইনিজ মোট কথা যে দেশের মেয়েকে পটাতে আগ্রহী, ইংরেজির পাশাপাশি সেই ভাষাতেও দেন। কীভাবে লিখবেন? আরে ব্রো, টেনশন দেনে কা, লেনে কা নেহি। বিপদের বন্ধু গুগুল মামা আছে না!

দ্বিতীয় ধাপ

এবার কভার ছবি আর প্রোফাইল পিক—এই দুইটাতে ভুলেও ডিএসএলআরে তোলা কিংবা এডিট করা ছবি দেওয়ার কথা মাথায়ও আনবেন না। চেহারা সুন্দর হলে রোদে ঘণ্টাখানেক দাঁড়িয়ে চেহারা ভচকিয়েও নেওয়া যেতে পারে। কারণ সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিদেশি পাখিরা যাদের কাছে আসছে, তাদের চেহারা খুব একটা সুবিধার না। এখানে সোলেমান খানের ভাত নাই। মাথায় সরিষার তেল মেখে বেশ কিছুক্ষণ রোদে পুড়ে কিংবা লোকাল বাসে গুলিস্থান থেকে মিরপুর বারো নম্বরে নেমে নরমাল মোবাইলে তোলা ছবিই প্রোফাইল পিকের জন্য বেস্ট। কভার ছবিতে

I M SIMPLE লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে রাখা যেতে পারে। 

তৃতীয় ধাপ

 

ব্যস, আপনি প্রস্তুত। এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়। বুকে ফু দিয়ে নেমে পড়ুন অ্যাকশনে। একের পর এক ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো শুরু করে দেন। বড়শি না, জাল ফালান মাঝ দরিয়ায়। কেন বড়শি না, এটা নিশ্চয়ই বুঝিয়ে বলতে হবে না? বড়শিতে একটা মাছ ওঠে আর জালে ঝাঁকে ঝাঁকে। যত বেশি মাঝ ধরা পড়বে, ততই লাভ। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করা মাত্রই চ্যাটিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।