“হিমোলিফিয়া এবং এর ক্রমবর্ধমান বোঝা: সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৩, ১৬:৩৬

বিশ্ব হিমোলিফিয়া দিবসে “সকলের জন্য চিকিৎসা ও রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ করা” এই উপপাদ্যকে সামনে রেখে ১৬ ই এপ্রিল রাজধানীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট ও রোশ বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো “হিমোলিফিয়া এবং এর ক্রমবর্ধমান বোঝা: সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা। 

হিমোলিফিয়া একটি বিরল রোগ যার কারনে রক্তক্ষরণ হলে রোগীর রক্ত জমাট বাঁধতে সমস্যা হয়। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৩০০০ চিহ্নিত রোগী এ রোগে আক্রান্ত আছে বলে জানা যায়। বিরল হলেও সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হয়। এই রোগে আক্রান্ত রোগী পঙ্গুত্ব বরণ করা সহ নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতায় পড়তে হয় বিধায় নানা ধরনের আর্থিক ও সামাজিক ব্যয়ের বিশাল একটি চাপে রোগীর পরিবারকে বারবার সম্মুখীন হতে হয়। আর তাই এই রোগের আর্থিক ও সামাজিক বোঝা দূরীকরণ এবং রোগ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট এর লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডাঃ মাজহারুল হক তপন। তিনি বলেন, "প্রোফাইল্যাক্টিক চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্য দিয়েই হিমোফিলিয়া রোগীকে একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন উপহার দেয়া সম্ভব।" তিনি তার বক্তব্যে আশ্বাস দেন যে, তিনি তার পক্ষ থেকে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য সর্বচ্চ প্রচেষ্টা করে যাবেন। 

জনাব মোঃ ওসমান ভূইয়া, যুগ্মসচিব (প্রতিবন্ধিতা), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সমাজের সকল অনশীজন্দের এগিয়ে আসতে আনুরোধ করেছেন এবং হিমোফিলিয়া বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে একসাথে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সালাউদ্দিন শাহ তার বক্তব্যে জানান, ব্লিডিং ডিসঅর্ডার এ বিনা চিকিৎসায় কোনো রোগী যাতে মারা না যায় এই গোলটেবিল আলোচনার মূল উদ্দেশ্য তাই হওয়া উচিত। পাশাপাশি ওয়ান স্টপ সার্ভিস সিস্টেম তৈরী করা উচিৎ। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এর হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ অখিল রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, অন-ডিমান্ড চিকিৎসার সাথে প্রোফাইল্যাক্সিস চিকিৎসার ব্যয় প্রায় কাছাকাছি হয়ে যায়। প্রোফাইল্যাক্সিস চিকিৎসার রোগী ও সমাজের জন্য বেশী সুফল বয়ে আনবে, তাই এই চিকিৎসাই সর্বোত্তম চিকিৎসা।

আয়োজনে হিমোলিফিয়ার নতুন উদ্ভাবনী চিকিৎসার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রোফাইলেক্টিক ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি। এই চিকিৎসা পদ্ধতি রোগীকে একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবন উপহার দিতে পারে। তবে এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি বেশ ব্যয়বহুল। এই ব্যয় মেটাতে রোগীর পরিবারের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহায়তা প্রয়োজন। তাই কিভাবে রোগীদের এই চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে শুধু রোগী ও তার পরিবার নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন অংশীজন্দের ভূমিকা রয়েছে, তাই নিয়ে আলোচনা হয়। প্রোফাইল্যাক্টিক চিকিৎসার এই চিকিৎসা ব্যয়ের বাঁধা, অনেক রোগীকে একটি সুস্থ জীবন থেকে বঞ্চিত করছে।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডাঃ সুপ্রিয় সরকার এবং অনুষ্ঠানটির সূচনা বক্তব্য প্রদান দেন রোশ বাংলাদেশের হেড অব ইন্টিগ্রেটেড স্ট্রাটেজি এন্ড কান্ট্রি মেডিকেল ডিরেক্টর ডাঃ ফারজানা হাসান। 

আরো উপস্থিত ছিলেন রোশ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার (ভারপ্রাপ্ত) ও হেড অব ফাইনেন্স এন্ড কমপ্লায়েন্স জনাব গাজী মঈন উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক সোসাইটি ও পরিচালক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট, ডাঃ এম. মোরশেদ জামান মিঞা, বিভাগীয় প্রধান, হেমাটোলজি বিভাগ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডাঃ এ. কে মো. মোস্তফা আবেদিন, সভাপতি, হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশ, জনাব মোঃ নুরুল ইসলাম, সভাপতি, হিমোফিলিয়া সোসাইটি অব বাংলাদেশ।

ইত্তেফাক/এএইচপি