গলার কাঁটা না বিষফোড়া: রোহিঙ্গা সংকট

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ২১:২২

শাহজাহান আলী মূসা

 

বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানবিক কারণে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ১১ লাখ রোহিঙ্গা আমাদের দেশে অবস্থান করছে। পাহাড়ি বন তো আগেই কিছু নষ্ট হয়েছিল, আর রোহিঙ্গাদের কারণে এখন তা প্রায় শেষ।’ প্রধানমন্ত্রীর কথায় এটা স্পষ্ট তারা এখন দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যারা এই সমস্যা থেকে সুবিধা নিতে চাইবে তাদেরও এর ফল ভোগ করতে হবে। যা এখন হয়তো তারা বুঝতে পারছে না। সেই বোঝানোর দায়িত্ব কিন্তু বাংলাদেশেরই বেশি। অবশ্য শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বিশ্বনেতৃবৃন্দের সহায়তা প্রয়োজন এবং সে লক্ষ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এখনো এ বিষয়ে আশানুরূপ উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

অনেক দেশ এই সমস্যা টিকিয়ে রাখতে চাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অনেক দেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে চাইলেও তা কথার কথা মাত্র। কয়েকজন রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে চেয়েছে কানাডা, যা লোকদেখানো ছাড়া কিছু নয়। যুক্তরাষ্ট্র এতদিন মিয়ানমার জেনারেলদের বিচারের কথা বললেও এখন সেই উচ্চ বাক্য নেই। ইইউ রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানের কথা বললেও তারা এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। কারণ যাদের দ্বারা এই সমস্যা সমাধান হওয়া সম্ভব তারা এর পিছনে কলকাঠি নাড়ছে। চীন, রাশিয়া, ভারতের সদিচ্ছা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান হওয়া সম্ভব নয়। তারা সেভাবে এগিয়ে আসছে না।

চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্রোহীরা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সঙ্গে কাজ করছে। একদিকে চীন মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করছে অন্যদিকে বিদ্রোহীদের অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে পরিস্থিতি করছে ঘোলাটে। কারণ সমস্যা জিইয়ে না রাখলে তাদের স্বার্থসিদ্ধি হবে না, এটা লক্ষণীয়। তা না হলে তারা নিষ্ক্রিয় কেন? বাংলাদেশই যেখানে জনসংখ্যার চাপে নুয়ে পড়ছে, সেখানে বিশাল দেশ মিয়ানমারে বাংলাদেশের জনসংখ্যার তুলনায় অনেক কম। মিয়ানমার জনগণকে জনসম্পদে পরিণত না করে জনদুশমনে পরিণত করেছে। এত বড় ভূখণ্ডে কিছু সংখ্যক লোকের জায়গা হয় না! এই জনগণই যে জনসম্পদ এটা বোঝাতে হবে মিয়ানমারকে। যা বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বেরই দায়িত্ব।

মাথা আমাদের, মাথাব্যথাও আমাদের। তাই রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। তা না হলে তারা এক সময় গলার কাঁটা  থেকে বিষফোঁড়ায় পরিণত হবে। এতদিন যারা রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার জন্য বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে তারাও এখন আর সেভাবে সহযোগিতা করছে না। তাই আমাদেরই এর সমাধানে এগিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘকে নিয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ দিতে হবে। যাতে বিশ্বের অন্যান্য দেশও অংশগ্রহণ করে। কেউ এমনি এমনি সোজা হয় না, যা আমাদের বজনিয়া শিখিয়ে দিয়েছে। মিয়ানমার যে রোহিঙ্গা ফেরত নিতে আন্তরিক নয় তা খুবই স্পষ্ট। যারা রোহিঙ্গাদের তাড়িয়েছে তারা এমনি এমনি ফেরত নেবে না। বিশ্ব যতোই অনুরোধ করুক না কেন, তারা এ সমস্যার সমাধান করবে না।

বাংলাদেশ এতদিন রোহিঙ্গা বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভদ্র আচরণ করেছে। সেজন্য মিয়ানমারের কাছ থেকে পেয়েছে শুধু হতাশা ও অভদ্র আচরণ। তারা বাংলাদেশকে উত্তেজিত করার জন্য সীমান্তে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডও করে যাচ্ছে একের পর এক। তাদের রুখতে বিশ্বকে বোঝাতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে এটা এক সময় ফিলিস্তিন সংকটের মতো হয়ে দাঁড়াবে।

ঢাকা