চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। চট্টগ্রামে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা ১ হাজার ৩৫৪ মেগাওয়াট। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৬৪৫ মেগাওয়াট। চাহিদা মেটানোর জন্য জাতীয় গ্রিড থেকে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিতে হচ্ছে। পিডিবির তথ্যমতে, দৈনিক ৩০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে আরো অনেক বেশি হচ্ছে। সরকারি বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি, গ্যাসের সংকট ও লেকে পানির সংকটে অনেক আগে থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনে ধস নেমেছে।
দিনের বেলা ছাড়াও সন্ধ্যার পর থেকে একাধিকবার লোডশেডিং করা হচ্ছে। রাতে সেহরির আগে ও পরে লোডশেডিং জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিং আরো বেশি করা হচ্ছে। প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে মানুষের ত্রাহি অবস্থা।
কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিটে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। লেকে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বাকি চারটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শিকলবাহা গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২২৫ ও ১৫০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন বলেন, মেরামত কাজের জন্য ২২৫ মেগাওয়াট কয়েক দিন উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আজ সোমবার থেকে উৎপাদন চালু করা সম্ভব হবে। আর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে আরো প্রায় দুই মাস সময় লাগতে পারে। এটি মেরামত কাজের জন্য আগে থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট গ্যাস-সংকটে অনেক আগে থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। মাঝেমধ্যে সীমিত গ্যাস দিয়ে একটি ইউনিট চালু করা হয়। এখন শিকলবাহায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সীমিত গ্যাস সরবরাহ দিয়ে একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে। এতে দৈনিক ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
গত শুক্রবার থেকে চট্টগ্রামে বিদ্যুতের লোডশেডিং হঠাৎ বেড়ে গেছে। গত শনিবার হাটহাজারি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ট্রান্সফরমারে সৃষ্ট সমস্যায় পুরো চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে গেছে। গত শনিবার রাতে সেহরির আগে ও পরে টানা দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিং করা হয়েছে। অনেক এলাকায় ইফতার ও সেহরির সময় বিদ্যুৎ ছিল না।
পিডিবি চট্টগ্রাম জোনের প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, হাটহাজারী বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারের মেরামত কাজ এখনো শেষ হয়নি। জাতীয়ভাবে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে টেকনিক্যাল সমস্যায় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। ফলে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।’
শহরের চেয়ে গ্রামের অবস্থা আরো খারাপ। টানা কয়েক ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। গ্রামে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ বিতরণ করে থাকে। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-১ (পটিয়া) জেনারেল ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, গরমের সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। গত ১৪ এপ্রিল থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে ভোগান্তি বেড়েছে। আমরা যা বরাদ্দ পাই, তা রেশনিং করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুতের বরাদ্দ প্রতিদিন সমান থাকে না।’
এদিকে বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে যন্ত্রণার মধ্যে ওয়াসার পানি উৎপাদনও কমে গেছে। ওয়াসার চারটি পানি শোধনাগারে হালদা ও কর্ণফুলী নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে পরিশোধন করে থাকে। এখন বৃষ্টি না হওয়ায় হালদা নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। আর কর্ণফুলী নদীর যে স্থান থেকে পানি সংগ্রহ করা হয় সেখানে পানিতে শেওলা জমে থাকায় পানি সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে।
ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, লবণাক্ততা ও শেওলার কারণে পানি উৎপাদন দৈনিক ১০ কোটি লিটার কম হচ্ছে। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে বিতরণ ব্যবস্থায় সমস্যা হচ্ছে। এতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পানির সংকট বেড়ে গেছে।’
