সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিতক

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ২১:২৫

মোজাহেদুল ইসলাম

 

ফেসবুকে একটি নিবেদিত, বহুজাতিক দল বিতর্কিত দেশগুলোর ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো বোঝার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আজ আমরা ঘৃণাত্মক বক্তব্য সরিয়ে ফেলতে, ভুল তথ্য ও গুজব কমাতে এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে জনগণকে অবহিত করতে তাদের কাজে আরও একটি নতুন ধারা সংযোজন করতে যাচ্ছি। লিখেছেন সামিধ চক্রবর্তী, ডিরেক্টর, প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, সিভিক ইন্টেগ্রিটি; এবং রোসা বির্চ, ডিরেক্টর, স্ট্র্যাটেজিক রেস্পন্স।

গত সপ্তাহে ডিজিটাল যুগে মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক সম্মেলন  রাইটসকোনে হাজার হাজার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আমরাও ছিলাম, যেখানে আমরা উকিল, কর্মী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের কথা শুনেছি এবং শিখেছি। এটি আমাদের দলকে বিতর্কিত দেশগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিভাবে কাজ কয়রে সেটা নিয়ে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছিল।

আজ আমরা আপডেট জানাচ্ছি নিম্নলিখিত বিষয়ে:

১.    আমরা আমাদের নিয়োজিত দলকে স্থায়ীভাবে আমাদের প্লাটফর্মের অপব্যবহার প্রতিরোধ করতে এবং বিশ্বজুড়ে ভবিষ্যত বিতর্কের ক্ষেত্রে দুর্বল সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে নিয়োজিত করেছি

২.    গুজব ছড়ানোর সম্ভাবনা কমাতে কিছু প্রাথমিক বিষয়বস্তুতে পরিবর্তন এবং

৩.    বিশ্বব্যাপী স্টেকহোল্ডারদের সাথে আমাদের জড়িত থাকার নীতিমালা।

 

দল সম্পর্কিত

আমরা সত্যিকার অর্থেই এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তিত ও আজকের পোস্টটি আমরা ফেসবুকের প্রতিনিধি হিসেবে নয় বরং সংশ্লিষ্ট নাগরিক হিসেবে যারা ডিজিটাল ও মানবাধিকার রক্ষা এবং সুসংবদ্ধ নাগরিক কথোপকথন প্রচারের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা উভয়ই নাগরিকত্ব, নীতি ও প্রযুক্তিগত গবেষণায় আমাদের ক্যারিয়ার উত্সর্গ করেছি।

গত বছর আমরা বিতর্কের সম্মুখীন দেশগুলোতে কিভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা হয় তা আরও ভালোভাবে বোঝার এবং মোকাবিলার জন্য পণ্য, প্রকৌশল, নীতি, গবেষণা এবং অপারেশন কাজে একটি নিবেদিতপ্রাণ দল নিয়োজিত করেছি। এই দলের লোকেরা ভুয়া তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং মেরুকরণের মতো বিষয় অধ্যয়ন করেছে। অনেকেই এমন দেশে বাস করেছেন বা কাজ করেছেন যেসব দেশ নিয়েই আমরা মূলত কাজ করছি। তাঁদের কয়েকজনের পরিচয় দেয়া হলো—

রাভি, রিসার্চ ম্যানেজার :সামাজিক মনস্তত্ত্ববিদ্যায় পিএইচডি করা রাভি তাঁর ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় কিভাবে বিতর্ক বৈষম্য ও মেরুকরণ সৃষ্টি করে তা নিয়ে সময় ব্যয় করেছে। ফেসবুকে, রবি ব্যবহারকারীদের আচরণের ডেটা এবং সার্ভেগুলো বিশ্লেষণ করেন যে কীভাবে কোন কন্টেন্ট যেমন- গসিপ পেজের কোন পোস্ট, আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডর্ড লঙ্ঘন না করেও বৈষম্যের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এই বিশ্লেষণটি জানায় আমরা কিভাবে কোন মেরুকরণ পোস্ট ও মন্তব্যগুলোর প্রভাব ও বিস্তারকে কমিয়ে দিই।

সারাহ, প্রোগ্রাম ম্যানেজার :ক্যামেরুনের শিক্ষার্থী হিসেবে শুরু করা সারাহ, প্রায় দশ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে যেসব দেশ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাতের সম্মুখীন হয়, সেখানে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে কাজ করে আসছে। ২০১৪ সালে সে মায়ানমারে যায় এবং সেখানে অ্যাক্টিভিস্টরা অনলাইনে এবং তাদের সম্প্রদায়কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সহযোগিতা করতে যেয়ে কি ধরণের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়, তা সম্পর্কে গবেষণা করে। সারাহ ফেসবুককে জটিল সমস্যায় প্রতিক্রিয়া জানাতে ও অপব্যবহার প্রতিরোধের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রোডাক্ট সল্যুশনগুলো বিকাশে সহায়তা করে - উদাহরণস্বরূপ, মেশিন-পঠনযোগ্য বিন্যাসে বার্মিজ কনটেন্ট কীভাবে পরিবর্তন করা যায় যাতে আমাদের এআই টুলস ঘৃণাত্মক বক্তব্যকে আরও ভালভাবে সনাক্ত করতে পারে।

অভিষেক, গবেষণা বিজ্ঞানী :কম্পিউটার বিজ্ঞানে মাস্টার্স ও মিডিয়া তত্ত্বে ডক্টরেট নেয়া অভিষেক বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংস কনটেন্টকে কিভাবে ভালোভাবে বিন্যাস করা যায় তা নিয়ে কাজ করে। উদাহরণস্বরূপ, ক্যামেরুন গবেষণায় প্রকাশিত হয়, কিভাবে সহিংসতার কিছু ছবি ফেসবুকে দেয়ার জন্য মানুষ সংঘর্ষের এলাকা চিহ্নিত করতে ও এড়িয়ে চলতে পেরেছে। এইরকম ঝামেলা আমাদের বিভিন্ন প্রোডাক্ট সল্যুশনগুলো সম্পর্কে নীতিমালা বিবেচনা করতে সহায়তা করে, যেমন কোন নির্দিষ্ট কন্টেন্ট সরিয়ে দেয়া বা ছড়ানোর সম্ভাবনা হ্রাস করা।

এমিলার, পলিসি ম্যানেজার :ফেসবুকে যোগদান করার আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আফ্রিকার মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায় বিচার বিষয়ে এবং ইন্টারনেট রাইটস এবং ফ্রিডমস এর আফ্রিকান ঘোষণাপত্র দলটির সদস্য হিসেবে কাজ করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার জনসাধারণের নীতিমালার বিষয়ে কাজ করার জন্য তিনি কোম্পানির সাথে যোগ দেন, যার মধ্যে সাশয়ী, ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ইন্টারনেট অ্যাক্সেস এবং অনলাইন ও অফলাইন উভয়ক্ষেত্রের মানবাধিকার অন্তর্ভূক্ত।

আলী, প্রোডাক্ট ম্যানেজার :১৯৮০ ও ৯০ এর দশকে ইরানে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠার সুবাদে আলী ও তার পরিবার প্রথম সহিংসতা ও সংঘর্ষের শিকার হন, কারণ ইরান ও ইরাক আট বছর ধরে সংঘর্ষে জড়িত ছিল। আলী ব্লগিংয়ের প্রথম গ্রহণকারী ছিলেন এবং মূলত ইরানে তার চারপাশে যা দেখেছিলেন তা লিখেছিলেন। একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে আলী কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি পেয়েছিলেন কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে তার আগ্রহ ছিল। ফেসবুকের প্রোডাক্ট টিমের সাথে কাজ করাটা তাকে প্রযুক্তি ও সামাজিক বিজ্ঞানে তার আগ্রহকে সমন্বয় করার সুযোগ করে দিয়েছে যার ফলে সে স্থানীয় সংঘর্ষ এবং সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার জন্য পরিবর্তনকে প্রভাবিত করেছে এমন ঘৃণাত্মক বক্তব্য এবং ভুল তথ্যকে বের করে আনতে এবং এর প্রযুক্তিগত সমাধান দিতে পারে।

 

প্রধান প্রধান জায়গা

এই বিষয়ে কাজ করার সময়, নাগরিক সমাজ আমাদের প্রোডাক্ট ও প্রোগ্রামগুলোতে তাদের মূল্যবান ইনপুট দিয়েছে। কোন এলাকার চ্যালঞ্জ সম্পর্কে সেই এলাকায় কর্মরত সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের তুলনায় ভালো আর কেউ জানে না। আমরা নিয়মিত আমাদের প্রোডাক্ট, নীতি ও প্রোগ্রামগুলোতে তাদের ইনপুটকে আহ্বান জানাই এবং গত সপ্তাহে আমরা নীতিগুলো প্রকাশ করেছি যা বাইরের স্টেকহোল্ডারদের সাথে আমাদের চলমান কার্যক্রম পরিচালনা করে।

গত বছর আমরা লেবানন, ক্যামেরুন, নাইজেরিয়া, মায়ানমার এবং শ্রীলংকার মতো দেশগুলোতে প্রভাবশালী সম্প্রদায়গুলোর সাথে কথা বলার জন্য গিয়েছিলাম তারা কিভাবে ফেসবুক ব্যবহার করে তা আরও ভালভাবে বুঝতে এবং এই ধরণের পরিবেশে কোন ধরনের প্রোডাক্ট ডিপোলারাইজেশনকে প্রচার করতে পারে তা মূল্যায়ন করতে। এই ফলাফল আমাদের তিনটি মূল জায়গায় মনোনিবেশ করতে সাহায্য করেছে: আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্স লঙ্ঘন করে এমন কন্টেন্ট ও অ্যাকাউন্টগুলো সরানো, বর্ডারলাইন কন্টেন্টের বিস্তারকে হ্রাস করা যা উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে ও ছড়িয়ে দিতে উস্কানী দেয় এবং আমাদের পণ্য এবং ইন্টারনেট সম্পর্কে লোকেদের অবহিত করা। অফলাইন সহিংসতার দিকে পরিচালিত হতে পারে এমন কন্টেন্ট মোকাবিলা করতে আমাদের দলটি ঘৃণাত্মক মন্তব্য এবং ভুয়া তথ্যের দিকে আলাদাভাবে নজর দেয়।

 

বাজে ইউজার ও খারাপ কন্টেন্ট সরানো

ঘৃণত্বক বক্তব্য আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডের অধীনে অনুমোদিত নয়। আমরা গতবছর বলেছিলাম, এই কন্টেন্টটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য এআইয়ের সাথে ব্যবহারকারীর প্রতিবেদনগুলোকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন যা সম্ভাব্য ঘৃণাত্মক পোস্টগুলোকে চিহ্নিত করতে পারে। আমরা আরবি, বার্মিজ, তাগালগ, ভিয়েতনামি, বাংলা ও সিংহলী ভাষার মত স্থানীয় ভাষাগুলোকে সনাক্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের সনাক্তকরণ পদ্ধতি উন্নত করে চলেছি। গত কয়েক মাসে আমরা আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘৃণাত্মক বক্তব্য সনাক্ত ও অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। বিশ্বব্যাপী আমরা আমাদের সক্রিয় তার হার বাড়িয়েছি - ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ক্ষেত্রে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা আমাদের কাছে রিপোর্ট করার আগেই আমরা তা আগের চেয়ে বেশি দ্রুততায় সরাতে সক্ষম হয়েছি যা ৫১.৫% কিউ ৩ ২০১৮ থেকে ৬৫.৪% কিউ১ ২০১৯।

আমরা আরও কার্যকরভাবে ঘৃণাত্মক বক্তব্য অপসারণের জন্য এআই নতুন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছি। আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন মেমে ও গ্রাফিক্স, উদাহরণস্বরূপ, একটি ফটো ব্যাংকে যোগ করা হবে যাতে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই ধরণের পোস্টগুলো মুছে ফেলতে পারি। আমরা ঘৃণ্য ও আপত্তিকর উপায়ে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন শব্দগুচ্ছ সনাক্ত করতে এবং একই সাথে এই শব্দগুচ্ছ কিভাবে সময় ও ভৌগোলিক অবস্থার সাথে পরিবর্তিত হয় তা সনাক্ত করার জন্য এআই ব্যবহার করছি যাতে স্থানীয় ঘৃণাত্মক মন্তব্যের ক্ষেত্রে আমরা আগেই পদক্ষেপ নিতে পারি । এটি আমাদের আরও দ্রুত ভাইরাল টেক্সট অপসারণ করতে সহায়তা করে।

এখনও আমাদের অনেকটা পথ যেতে হবে। প্রতিবার আমরা যখন নতুন একটি দেশে সম্ভাব্যভাবে নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কন্টেন্ট সনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করতে চাই আমাদের শূণ্য থেকে শুরু করতে হয় এবং উচ্চমানের সমৃদ্ধ উত্স এবং স্থানীয়ভাবে প্রাসঙ্গিক উদাহরণগুলোর মাধ্যমে আলগোরিদমগুলোকে প্রশিক্ষিত করতে হয়। এই নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট নির্ভর তথ্য ছাড়া আমরা ভাষার নিখুঁত অর্থ হারাতে পারি। বিশ্বব্যাপী যখন ভুল তথ্য আসে তখন আমরা আমরা তৃতীয় পক্ষ পর্যবেক্ষণের দ্বারা মিথ্যা হিসেবে বিবেচিত সেই কন্টেন্ট বিস্তার কমিয়ে দিই। কিন্তু সংবেদনশীল তথ্যসম্বলিত বাস্তুতন্ত্রের দেশগুলোতে মিথ্যা সংবাদগুলো গুরুতর পরিণতি এমনকি সহিংসতার দিকেও যেতে পারে। আর তাই গত বছর আমরা আমাদের বিশ্বব্যাপী ভায়োলেন্স  ও ইনসাইটমেন্ট পলিসি এমনভাবে আপডেট করেছি যাতে আমরা এমন ভুল তথ্য মুছে ফেলতে পারি যা আসন্ন সহিংসতা বা শারীরিক ক্ষতিতে উস্কানী দিতে পারে। এই নীতিটি কার্যকর করার জন্য আমরা নাগরিক সামাজিক সংস্থার সাথে অংশীদারিত্ব করি যাতে কোন কন্টেন্ট মিথ্যা কিনা তা নিশ্চিত করতে এবং সহিংসতা বা ক্ষতির সম্ভাবনা আছে কি না তা নিশ্চিত করতে আমাদের সহায়তা করতে পারে।

 

ভুল তথ্য ও বর্ডারলাইন কন্টেন্ট কমিয়ে আনা

যেসব কন্টেন্ট সংঘর্ষ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি এবং বৃদ্ধি করতে পারে সেসব কন্টেন্টের প্রসার এবং ভাইরালিটি কমিয়ে আনতে আমরা আমাদের পণ্যগুলোতে কিছু মৌলিক পরিবর্তন করেছি। শ্রীলঙ্কাতে ম্যাসেজ ফরওয়ার্ড করার ক্ষেত্রে হোয়াটস অ্যাপের মতো ম্যাসেঞ্জারেও আমরা একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি, যেন কোনো একটি ম্যসেজ নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যেই থাকে। এ বছরের শরুতে সারা বিশ্বে হোয়াটস অ্যাপের ম্যাসেজ ফরওয়ার্ড করার ক্ষেত্রে আমরা একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। ব্যবহারকারীদের মতে তারা নিজেরাও চেইন ম্যাসেজ পেতে চান না, যা আমাদের এই উদ্যোগেরই পক্ষে। আমাদের সিইও মার্ক জাকারবার্গ গত বছরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বর্ডারলাইন কন্টেন্ট বা সহিংসতা বৃদ্ধি করতে পারে এমন কন্টেন্ট বা যেসব কন্টেন্ট অনুমোদনযোগ্য সীমা ছাড়িয়ে যায় সেসব কন্টেন্ট ব্যবহারে ব্যবহারকারীদের নিরুত্সাহিত করতে শুরু করেছি। এটা সত্য যেসব দেশে এই ধরনের বর্ডারলাইন কন্টেন্ট বা সংবেদনশীল ও উত্তেজক জাতিয় কন্টেন্টের কারণে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে সেখানে এরকম আরও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ যারা আমাদের নীতি প্রতিনিয়ত ভঙ্গ করেন তাদের প্রতি আমরা আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মায়ানমারে যেসব ব্যবহারকারী আমাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড পরিপন্থী কন্টেন্ট দিয়েছেন আমরা তাদের সব কন্টেন্টের প্রচার কমিয়ে দিয়েছি। অন্যান্য দেশেও এই ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে যদি এরকম কোনো ধরনের দ্বন্দ্বের আভাস পাওয়া যায়। ক্ষেত্রবিশেষে যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আরও সরাসরিভাবে সহিংসতায় লিপ্ত হয় বা সেটা বর্ধিত করে তবে আমরা তাদেরকে আমাদের নীতি অনুযায়ী ভয়ংকর ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যান করবো। পাশাপাশি এই ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় কন্টেন্টের প্রসার কমিয়ে আনা আমাদের আর একটি হাতিয়ার। আমরা আমাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে সহিংসতা বৃদ্ধি করতে পারে এমন চিত্র বা কমেন্ট চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি যেগুলো আক্রমণাত্মক বা অমানবিক হতে পারে। ফলে আমাদের কমিউনিটি অপারেশনস টিম আগে থেকেই সেগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারে এবং এর প্রচার কমিয়ে আনতে পারে। যদি এই কন্টেন্টগুলো আমাদের নীতি পরিপন্থী হয় তাহলে আমরা সেগুলোকে আমাদের প্লাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিব। আমরা আশা করি এভাবে এসব কন্টেন্টের প্রচার কমিয়ে আনার মাধ্যমে আমরা অফলাইনে ক্ষতি ও সহিংসতার ঝুঁকি প্রশমিত করতে পারব।

 

মানুষকে বাড়তি টুলস এবং তথ্য প্রদান

 সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা প্রতিনিয়ত নাগরিক সমাজ থেকে শিখতে থাকি যারা নির্দিষ্ট এলাকার প্রবণতা ও সমস্যা সম্পর্কে গভীরভাবে পরিচিত এবং প্রায়ই জটিল সংকটের সময় সামনের সারিতে থাকে।আরো ভালো যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকারক পোস্টগুলো আরো ভালোভাবে চিহ্নিত করতে আমাদের পার্টনারদের জন্য আমরা নতুন একটি টুল তৈরি করেছি যাতে করে তারা আমাদের কাছে সরাসরি কনটেন্ট পাঠাতে পারে। এক্ষেত্রে সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের প্রতিবন্ধকতা এবং ঝুঁকি আমরা উপলব্ধি করতে পারি এবং সে কারণেই আমরা রিপোর্টিং প্রসেসটাকে স্ট্রিমলাইনে আনতে এবং এটিকে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত করতে কঠোর পরিশ্রম করছি।

আমাদের পার্টনারশিপ বেশিরভাগ মানুষ নতুন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে এমন দেশগুলোতে ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতেও সহায়ক হচ্ছে। এ সপ্তাহে জিএসএমএ এর সঙ্গে আমরা ‘ইন্টারনেট ওয়ান-অন -ওয়ান’ নামে নতুন প্রোগ্রাম ঘোষণা করেছি। এক মাসে পাঁচ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে আমরা প্রোগ্রামটি সর্বপ্রথম মিয়ানমারে শুরু করেছিলাম, যেখানে ইন্টারনেটের উপকারিতা এবং অনলাইনে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায় তা নিয়ে একটি ভিডিও অন্তর্ভুক্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান ট্রেনিং সেশন রয়েছে অন্যান্য টেলিকম কোম্পানীর পার্টনার হতে এবং বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা করছি। নাইজেরিয়াতে মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘সেফ অনলাইন উইথ ফেসবুক’ নামে ১২ সপ্তাহের একটি ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রোগ্রাম চালু করেছি আমরা। রি:লার্ণ এবং জুনিয়র অ্যাচিভম্যান্ট নাইজেরিয়ার সঙ্গে পার্টনারশিপ উন্নতির মাধ্যমে এই প্রোগ্রাম ১৬০ টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করছে এবং অনলাইন নিরাপত্তা, সংবাদ সাক্ষরতা, স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ এবং আরো অন্যান্য বিষয়কে সহজ করতে পুরো নাইজেরিয়ায় একটি প্রশিক্ষক দল কাজ করছে।

 

পরবর্তী করণীয়  

আমরা জানি, যেসব দেশ দ্বিধায় আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে তাদের আরো বেশি জানতে হবে। আমরা এই সমাধানের অংশীদার হতে চাই যাতে করে অপব্যবহার এবং ক্ষতিকারক কনটেন্ট কমানো যায় এবং মানুষ যোগাযোগের জন্য আমাদের সেবা ব্যবহার চালু রাখে। শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার সময় আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ নিজেদের নিরাপদ চিহ্নিত করতে ফেসবুকের সেফটি চেক ব্যবহার করেছে এবং প্রিয়জনকে দুশ্চিন্তামুক্ত করেছে। একই সময়ে, সাহায্য দিতে এবং নিতে শ্রীলঙ্কার হাজার হাজার মানুষ আমাদের ক্রাইসিস রেসপন্স টুলস ব্যবহার করেছে। আমরা এগুলো বজায় রাখতে চাই যা কল্যাণ, অর্থবোধক এবং গর্ব করার মতো।

এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর মধ্যে একটি, যা ফেসবুকের মাধ্যমে করা হয়েছে এবং আমরা এই চ্যাঞ্জেলে’র গুরুত্ব খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারি। ঘৃণাত্বক বক্তব্য এবং ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আমাদের পণ্য পরিবর্তনে বিনিয়োগ করে এবং পার্টনারশিপ শক্তিশালী করে, আমরা সারাবিশ্বে এসব বিষয়গুলোর উন্নতি করতে পারি।

সূত্র : নিউজরুম ডট এফর্বি