কক্সবাজারে ৫০০ টাকার জন্য প্রক্সি দিতে এসে কারাগারে গেলেন মামুন (২৫) নামে এক টমটমচালক। রোববার (১৬ এপ্রিল) কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দ্রুত এজলাস ত্যাগ করেন জামিন আবেদনকারী আইনজীবী মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী।
মামুন কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে। টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের পানছড়ি এলাকার আলী আহমদের ছেলে মাদক মামলার পলাতক আসামি তোফায়েল সেজে জামিন নিতে গিয়েছিল মামুন।
জানা যায়, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ভোরে টেকনাফ থানার সাবরাং পানছড়িপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে হারুন (২২) ও খাইরুল আমিন (৩৫) নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এ সময় শামসুল আলম (৪৫), আলমগীর (৩৭) এবং তোফায়েল (৩৫) নামে আরও তিন জন পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতে ইলিয়াসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় ১ লাখ ১৬ হাজার পিস ইয়াবা। এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক ও তোফায়েলসহ আরও ৩ জনকে পলাতক দেখিয়ে টেকনাফ থানায় মামলা করা হয়।
রোববার (১৬ এপ্রিল) ছিল সেই মামলার শুনানির দিন। এদিন পলাতক তোফায়েলের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী। কিন্তু প্রকৃত আসামিকে হাজির না করে টমটম চালক মামুনকে কাঠগড়ায় তুলেন। আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে পুলিশ মামুনকে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে কাঠগড়া থেকে নিয়ে যেতে চাইলে মামুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমাকে কেন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমি তো কোনো অন্যায় করিনি। আমি তোফায়েল নয়, মামুন। উকিল বলেছে শুধু হাত তুলে হাজিরা দিতে। পরে চলে যেতে পারবে। তারা আমাকে ৫০০ টাকা দিয়ে রাজি করিয়েছে।
মামুনের বাবা আব্দুল্লাহ বলেন, ফোন করে জানানো হলো যে মামুনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দ্রুত এসে আসল ঘটনা জানতে পারি। আইনজীবী এবং মাদক ব্যবসায়ীর পরিবার আমার ছেলের সর্বনাশ করেছে।
আদালতের পিপি আইনজীবী ফরিদুল আলম বলেন, বিষয়টি জানার পর আদালতকে অবগত করি। আসামি না হয়ে প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে তাকে আদালত শাস্তি দিতে পারেন। আইনজীবীদের এ ধরনের আচরণ কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
