কয়রায় নদী ভাঙন
কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে কয়রা এলাকায় অতিমাত্রায় নদী ভাঙন দেখা দেওয়ায় চরম উত্কণ্ঠার মধ্যে রয়েছে জনগণ। পরিকল্পনামাফিক বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছে তারা।
সূত্রমতে, ১৯৮৮ সালের ২৯ নভেম্বর সুন্দরবন উপকূলে প্রলয়ংকরী সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল খুলনা চট্টগ্রাম কক্সবাজার অঞ্চলে স্মরণকালের ভয়াবহ সামুদ্রিক ঝড়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী ও খুলনা উপকূলে সিডরের তাণ্ডব এবং ২০০৯ সালের ২৫ মে খুলনা, সাতক্ষীরা উপকূলে আইলার ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে গোটা উপকূলীয় এলাকার প্রাকৃতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। এর সঙ্গে নতুন মাত্রায় নদী ভাঙন যোগ হয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও শ্যামনগর এলাকায় প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। উপর্যুপরি নদী ভাঙন কেড়ে নিচ্ছে শত শত একর কৃষি জমি, বসতভিটা, চিংড়ি ঘের ও রাস্তাঘাট। দিন যতই পার হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার মানুষ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ততই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উত্তর বেদকাশি ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনামাফিক বেড়িবাঁধ করা হলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে। উপজেলা জলবায়ু পরিষদ ইতিমধ্যে সিএসআর প্রকল্পের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে কয়রার সমস্যাগুলো বের করে তা কিভাবে মোকাবেলা করা যায় তার উপর কাজ করছে। কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ব্যাপক ক্ষতির দিকটি বিবেচনায় এনে টেকসই প্রকল্প হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছে।
