টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের টেকনাফের উপকূলীয় শীলখালীর মেরিন ড্রাইভ সড়কের পার্শ্ববর্তী ঝাউবাগান উজাড় হচ্ছে। স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব ঝাউগাছ কাটার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী মেরিন ড্রাইভের পার্শ্বে ২ একর জমিতে সেনাবাহিনী এসব ঝাউগাছের চারা রোপণ করে। এই চারাগাছ দৃষ্টিনন্দন হয়ে একটু একটু বাড়তে থাকায় লোভে পড়ে মাদকসেবী ও কাঠচোর চক্রের সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। পর্যায়ক্রমে এই বাগানের ঝাউগাছ চুরির ফলে এখন বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে উপকূল। এ ব্যাপারে শীলখালী সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. দেলোয়ার বলেন, সম্প্রতি মাদকসেবীদের উত্পাত বৃদ্ধি এবং কাঠচোরদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এসব বাগানের গাছ চুরি হচ্ছে। এসব বনায়ন রক্ষায় আরো তদারকি দরকার।
স্থানীয় সচেতনমহল ও পরিবেশবাদীরা মনে করেন, মেরিন ড্রাইভকে সাগরের গ্রাস থেকে রক্ষা, সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষায় মূলত সেনাবাহিনী এসব ঝাউগাছ রোপণ করেছে। এসব বন উজাড় করায় দিন দিন পরিবেশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।
এ ব্যাপারে বাহারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন জানান, যারা শীলখালীর ঝাউবাগান উজাড়ের সাথে জড়িত তারা দুর্বৃত্ত। তাদের খোঁজ পেলে বন আইনে মামলা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপকূলীয় শীলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহফুজ আলম জানান, সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষ এই বাগানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে না দিলেও আমরাই এই বাগানটি দেখাশুনা করছি। সমুদ্রতীরের ঝাউগাছ হোক কিংবা পাহাড়ের গাছ হোক; যারাই এসব গাছ কাটুক তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ ও বন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাইফুল আশ্রাব জানান, উপকূলের ঝাউবাগান নিধন হলে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মেরিন ড্রাইভ ঝুঁকির মুখে পড়বে। তিনি পরিবেশের স্বার্থে এই বনায়ন রক্ষার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, এই বাগানের আগেও উপকূলীয় বনবিভাগ ৩ হাজার ঝাউবাগানের চারা রোপণ করে বাগান সৃষ্টি করেছিল। কাঠচোরদের দৌরাত্ম্যের কারণে এখন মাত্র কয়েকটি গাছের অস্তিত্ব রয়েছে। এসব গাছ কাটার ফলে এলাকার পরিবেশের বিপর্যয়ের পাশাপাশি সমুদ্রের প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে বালু ক্ষয় হচ্ছে। যার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলোচ্ছ্বাস কিংবা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা হলে প্রধান সড়কসহ স্থানীয় বাসিন্দারা নানামুখী ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
