দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি-০২ হলের জু'মা মসজিদে আয়োজিত খতমে তারাবীহর নামাজে ইমামতি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ মেহেরুল্লাহ্ সরদার। হাফেজ মেহেরুল্লাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই হলেরই ভর্তিকালীন সময়ের এটাস্ট আবাসিক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি-০২ হলের তারাবীহর নামাজে ইমামতি করা দু'জন হাফেজের মধ্যে অন্যজন হাফেজ খলিলুর রহমান।
হাফেজি শেষ করার পর থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর তারবীহর নামাজ পড়িয়েছেন মেহেরুল্লাহ্। এর আগেও ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২২ সালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি জামে মসজিদে খতম তারাবীহর নামাজে ইমামতি করেছেন তিনি। করোনার দুই বছরও বাসায় পারিবারিকভাবে খতম তারাবীহর ঈমামতি করেছেন মেহেরুল্লাহ্।
এদিকে এবার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ও থিসিস, প্রি-ডিফেন্স সামলে তারাবীহর নামাজ পড়িয়েছেন মেহেরুল্লাহ্।
নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নামাজের ইমামতি করার অনুভূতি জানতে চাইলে হাফেজ মেহেরুল্লাহ্ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্। এটা পবিত্র অনুভূতি। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে তারাবীহর নামাজে ইমামতি করতে পেরে আমার অনেক ভালো লাগছে।
হলের শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসের হাফেজই তারাবীহর নামাজের ইমামতি করেছেন বিষয়টা বেশ গর্বের এবং আনন্দের।
ডরমিটরি-০২ হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মো. আবু সাঈদ বলেন, এই হলে প্রথমবারের মতো খতম তারাবীহর নামাজ পড়া হয়েছে। দু'জন হাফেজ নামাজ পড়িয়েছেন, তন্মধ্যে একজন আমাদেরই ছাত্র। এটা বেশ আনন্দের খবর। আমাদের হলে পরবর্তী বছরগুলোতেও খতম তারাবীহ চালু থাকবে ইনশাআল্লাহ্।
উল্লেখ্য, হাবিপ্রবি ছাত্র হাফেজ মেহেরুল্লাহ্ সরদার খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের হাফেজ মো. জামির সরদারের ছেলে।
২০০৭ সালে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ শেষে খুলনার এক হাফেজি মাদরাসায় ভর্তি হন হাফেজ মেহেরুল্লাহ্। সেখানে চার বছরের মধ্যে প্রথম বছরে কিরাত খানা, পরবর্তী দুই বছরে হিফয এবং শেষ বছরে শুনানো শেষ করে এসএসসি পরীক্ষার জন্য দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে জিপিএ -৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে ভর্তি হন খুলনার বি.এল কলেজে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাশ করেন তিনি।
সবশেষে ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় একাধারে শাবিপ্রবি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, যবিপ্রবি, পাবিপ্রবি এবং হাবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হয়ে পেয়ে মেধার স্বাক্ষর রাখেন তিনি। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে মেহেরুল্লাহ্ ভর্তি হন দিনাজপুরের হাবিপ্রবির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
