শোলাকিয়া ১৯৬তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৩, ১৩:২২

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরে ঈদের জামাত শনিবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল ফিতরের ১৯৬তম জামাত। সারা দেশ থেকে মুসল্লিরা এসে এই জামাতে শরিক হন।

নামাজ শুরুর পাঁচ মিনিট আগে একবার, তিন মিনিট আগে আরেকবার এবং এক মিনিট আগে শেষবারের মতো বন্দুকের ফাঁকা ছুঁড়ে মুসল্লিদের নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সতর্কতামূলক সংকেত দেওয়া হয়।

নামাজ শুরুর আগে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ ও কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ। 

এবছরও জামাতে ইমামতি, খুতবা ও দোয়া পাঠ করেন বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

লাখো মুসল্লির সঙ্গে একসঙ্গে দেশের প্রাচীন এই ঈদগাহে নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই-তিনদিন আগে থেকেই মুসল্লিরা কিশোরগঞ্জ আসতে শুরু করেন। ট্রেন, বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে তারা এখানে আসেন।

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। ছবি: ইত্তেফাক

গাজীপুরের কাপাসিয়ার জয়নগর গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী ইউনুছ আলী জানান, স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই তিনি প্রতিবছর এই মাঠে নামাজ পড়তে আসেন।

তিনি জানান, যোগাযোগের অব্যবস্থার কারণে ১৬ বছর প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তিনি নামাজ পড়তে এসেছেন। এবছর তার সঙ্গী হয়েছেন একই উপজেলার বড়বাড়ি গ্রামের সিদ্দিক মিয়া(৬২)। তিনিও প্রতিবছরই এই মাঠে নামাজ আদায় করে থাকেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটো, টমটম, মোটরসাইকেল, সাইকেল ইত্যাদি যানবাহনে চড়ে কিশোরগঞ্জ আসেন। ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন সকালে নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের নিয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে আসে এবং নামাজ শেষে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।

মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। নারীদের জন্য সরয়ূবালা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে পৃথক নামাজের ব্যবস্থা করা হয়।

ইত্তেফাক/আরএজে