সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও গতকাল নানা আয়োজনে পালিত হলো বিশ্ব সংগীত দিবস। শিল্পকলা একাডেমি, সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ ও আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকায় ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন ছিল।
শিল্পকলা একাডেমি : ‘সুরের আগুন ছড়িয়ে দেব সবপ্রাণে’ প্রতিপাদ্যে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর শিল্পী ফুয়াদ নাসের বাবুর পরিচালনায় বাংলাদেশ মিউজিশিয়ানস ফাউন্ডেশন সমবেত যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করে। প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যের যন্ত্রের সুরমূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান মঞ্চ। এরপর ছিল আলোচনা পর্ব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন শিল্পী খুরশিদ আলম ও দিনাত জাহান মুন্নী। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে শিল্পকলা প্রাঙ্গণে আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা পর্ব শেষে শিল্পকলা একাডেমি শিশু দল গেয়ে শোনায় লালন সাঁইয়ের ‘সত্য বল সুপথে চল’ গানটি। এরপর ঢাকা সাংস্কৃতিক দল ও শিল্পকলা একাডেমির সংগীত দল গেয়ে শোনায় ‘ও আলোর পথযাত্রী’। উত্তরায়ণের শিল্পীদের কণ্ঠে গীত হয় ‘জাগ জাগ রে জাগ সংগীত’।
মৌটুসী, বাদশা বুলবুল, সিথি, প্রিয়াংকা বিশ্বাস ও ডলি শায়ন্তনীর কণ্ঠে ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।
সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ : ‘সংগীত হোক বিশ্বজয়ের মন্ত্র’ প্রতিপাদ্যে সংগীত দিবসের আয়োজন করে সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ। দুই দিনব্যাপী এ সংগীত আসরের সূচনা হয় গতকাল বিকেলে। সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এর আগে বের হয় সংগীতশিল্পীদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। অনুষ্ঠানে শিল্পী মিতা হককে সংবর্ধনা প্রদান এবং একুশে পদকপ্রাপ্তি উপলক্ষে লিয়াকত আলী লাকীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। আলোচনায় অংশ নেন ভাষাসৈনিক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, লোক গবেষক শামসুজ্জামান খান, গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, সুরস্রষ্টা শেখ সাদী খান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি মাহমুদ সেলিম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শিল্পী তপন মাহমুদ।
