একের পর এক অভিযানে বিভিন্ন মাদকসহ বিক্রেতারা আটক হওয়ার পরেও থেমে নেই বরিশালে মাদকের জমজমাট ব্যবসা। সর্বত্রই বিক্রি হচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবা থেকে শুরু করে গাঁজা-ফেন্সিডিল পর্যন্ত। হাত বাড়ালেই এসব নেশা জাতীয় দ্রব্য পাচ্ছে তরুণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবকরা। এমনকি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাও জড়িয়ে পড়ছেন নতুন নতুন ব্র্যান্ডের নেশায়।
প্রতিদিনই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা এসব মরণ নেশাসহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করছে। হাজার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার হলেও থেমে নেই ব্যবসা। র্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা আসার পরে ফেন্সিডিলের কদর কমে যায় মাদকসেবীদের কাছে। এখন বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নগরীতে বিক্রি হলেও তা ধরা মুশকিল হয়ে পড়েছে। পুরনো খুচরা ইয়াবা বিক্রেতাদের মাঝে মধ্যে গ্রেফতার করা হলেও নতুন করে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
সম্প্রতি কোস্টগার্ড কুয়াকাটা সংলগ্ন সমুদ্রে পাঁচ লাখ পিস ইয়াবা, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে ৯ হাজার ৮শ পিস ইয়াবা ও র্যাব কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিভিন্ন মাদক উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, মাদক বহনে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে ব্যবসায়ীরা। এম্বুলেন্সে এমনকি লাশের কফিনও ব্যবহার করছে তারা। এছাড়া সবজির ট্রাক, মাছের ঝুড়ি, চিঠির খাম, জুতার তলা, স্কুল ব্যাগে করেও মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্পটে। তবে সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিস। এছাড়া নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলে নৌ-পথেও নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে মরণ নেশা। জানা গেছে, নগরীর বস্তিগুলোতে ১০ বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৭০ বছরের বৃদ্ধরা পর্যন্ত মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। আর বস্তি থেকে খুচরা বিক্রির জন্য মাদকদ্রব্য অভিজাত এলাকায় বহন করে নিয়ে আসে তরুণ ও যুবকরা। তারা স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ ভিআইপি এলাকার বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসব নেশা জাতীয় দ্রব্য ফেরিওয়ালাদের মতো বিক্রি করতে ঘুরে বেড়ায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, মাদক নির্মূলে মাঠ পর্যায়ে যারা কাছ করছেন তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন। তাদের চেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষে মাদক উদ্ধার করা কিছুটা সহজ। কারণ তাদের নির্দিষ্ট থানার বাইরে অভিযান পরিচালনায় বেগ পেতে হয়। কিন্তু জেলার গোয়েন্দা পুলিশ সদস্যরা পুরো জেলায় আর মেট্রোপলিটনের সদস্যরা পুরো এলাকাতেই কাজ করতে পারেন। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, যারা মাদকদ্রব্যসহ র্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেফতার হচ্ছে তারাও কিছুদিনের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুরনো পেশায় যুক্ত হচ্ছে।
