পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান লেখক এবং খ্যাতিমান সাংবাদিক তারেক ফাতাহ গত সোমবার (২৪ এপ্রিল) টরন্টোতে মৃত্যবরণ করেছেন। তার সাংবাদিক মেয়ে নাতাশা ফাতাহ টুইটার পোস্টে মৃত্যুর খবর জানান। তারেক ফাতাহ দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে হেরে গেলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৩ বছর।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ওপর বর্বর নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় পাকিস্তান সরকার তারেক ফাতাহকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ‘বাংলাদেশের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিত।
তিনি পাকিস্তানের করাচিতে ১৯৪৯ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে ১৯৭০ সাল থেকে 'করাচি সান' পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি বামপন্থী ছাত্রনেতা ছিলেন। ১৯৭৭ সালে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয় এবং দেশটির জিয়া-উল হক সরকার তাকে সাংবাদিকতা থেকে নিষিদ্ধ করে। পরে তিনি দেশান্তরি হয়ে কানাডায় অভিবাসী হন, আশির দশকে।
কানাডিয়ান কলামিস্ট এবং বিখ্যাত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব তারেক ফাতাহ 'চেজিং এ মিরাজ: দ্য ট্র্যাজিক ইলিউশন অফ অ্যান ইসলামিক স্টেট' এবং 'দ্য জেউ ইজ নট মাই এনিমি: উন্মোচন দ্য মিথস যা মুসলিম অ্যান্টি-সিমিটিজমকে উসকে দেয়'সহ বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন।
তিনি বেলিস্থানের স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করছেন এবং টরন্টোতে পাকিস্তানি পকাতা পুড়িয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। কানাডার মূলধারার গণমাধ্যম ছাড়াও ভারতের ইউটিউব চ্যানেলে নিউ দিল্লি টাইমস-এর ‘ফাতাকা ফাতুয়া’-এর জনপ্রিয় হোস্ট ছিলেন। তিনি কানাডার মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
তারেক ফাতাহ সম্পর্কে দীপ্ত টিভির সিইও ফুয়াদ চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, তার সঙ্গে আমার চল্লিশ বছরের সম্পর্ক। তার মৃত্যুতে আমি শোকাভিভুত। তিনি বাংলাদেশের বন্ধু ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের উপর নির্যাতন করার প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে।
ফুয়াদ চৌধুরী স্মৃতিচারণ করে আরও জানান, তারেক প্রগতিশীল মুসলমান ছিলেন। ইসলাম সম্পর্কে তার পড়াশোনা এবং পাণ্ডিত্য ছিলো অতুলনীয়। আমার নির্মিত ‘বাংলাদেশের নৃশংসতাঃ পাকিস্তানিদের চোখে Merciless Mayhem’ তথ্যচিত্রে পাকিস্তানি তারিক খান, রোশান জামিরের সঙ্গে তারেক ফাতাহও ছিলেন। তিনি শুধু সাক্ষাতকারই দেননি, পরামর্শও দিয়েছেন।
