চট্টগ্রামে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রামে গণপরিবহন সেক্টরে বিশৃঙ্খলা বন্ধে টানা অভিযান চালাচ্ছেন বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। প্রতিদিন ফিটনেসবিহীন যানবাহন, রুট পারমিট, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অনিয়ম নিয়ে মামলা ও জরিমানা আদায় করছেন তারা। বিআরটিএর অভিযান নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। তারা অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধ না হলে ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। চট্টগ্রামে গণপরিবহনের প্রায় ৮০ শতাংশ গাড়ির ডকুমেন্ট ত্রুটিপূর্ণ। মামলা নিয়েই এসব গাড়ি চলাচল করছে। কোনো কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সড়কে পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মনজুরুল আলম মঞ্জু বলেন, সড়ক বিশৃঙ্খলার জন্য পরিবহন মালিক শ্রমিককে দায়ী করলে হবে না। আমরাও শৃঙ্খলা চাই। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটরা কোন গাড়িতে সিট বেশি, কোন গাড়ি থেকে ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ নিতে পারে এসব নিয়ে ব্যস্ত। বৈধ গাড়ির বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে। একটি গাড়ির বিরুদ্ধে ৭/১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হচ্ছে। গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা শহরের ভেতরে চললেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। প্রশাসন ও পুলিশ সরকারকে বিব্রত করতে চায়। মিরসরাই বারাইয়ার হাটে পণ্যবাহী গাড়ি টাকা না দিলে যেতে দিচ্ছে না। আমরা একটি কমিটি করেছি। সড়কে হয়রানি বন্ধ না করলে পণ্য ও গণপরিবহন মালিক শ্রমিকরা আন্দোলনের কর্মসূচি দেব।’
বিআরটিএর ৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রামে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মনজুরুল হক বলেন, ‘সড়কে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। কেন শৃঙ্খলা আনা যাচ্ছে না তারাই বলতে পারবে। পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। আমরা অভিযানে মামলা ও জরিমানা করছি। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জরিমানা ও মামলার কারণে কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হতে পারে।’
বিআরটিএর এক শীর্ষ কর্মকর্তার অভিযোগ, পরিবহন সেক্টরের অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে পুলিশ ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়েছে। পণ্যবাহী ও গণপরিবহনের প্রতিটি গাড়ির ডকুমেন্ট আপডেট থাকলেও পুলিশকে মাসে নির্ধারিত হারে টাকা দিতে হচ্ছে। দিনের বেলায় নগরীতে চলাচলরত পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান, ট্রাক ও লরি থেকে মাসে নির্ধারিত টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। নগরী ও জেলায় বিপুল পরিমাণ প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকশা ভাড়ায় চলাচল করছে। এসব অটোরিকশা থেকে অর্থ আদায় করছে পুলিশ।
বিআরটিএ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় দেখা যায় সেই রুটে যানবাহন হঠাত্ উধাও হয়ে যায়। গাড়ির ডকুমেন্ট আপডেট না থাকায় গাড়িগুলো যাত্রী পরিবহন বন্ধ করে দেয়। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ে এসব রুট দিয়ে যাতায়াতকারী স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। নগরীতে যেখানেই মোবাইল কোর্ট বসানো হয় সেখানে গণপরিবহনের গাড়ি নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
সিএমপির শীর্ষ এক ট্রাফিক কর্মকর্তা বলেন, সবাই আমাদের ওপর দোষ চাপায়। নগরীতে লাইসেন্সবিহীন হাজারো রিকশা চলছে। ফুটপাতে দোকান বসিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি হচ্ছে। এখানে সিটি করপোরেশনের দায়িত্বও রয়েছে। আমাদের জনবলের সংকট ও কাজের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সব সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন।’
বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ইত্তেফাককে বলেন, ‘সড়কে শৃঙ্খলার দায়িত্ব বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক সকলের। সকলে যদি অর্পিত দায়িত্ব পালন করে তাহলে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বিরাজ করবে। আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।
