সুইডেনের উৎক্ষেপণ করা একটি গবেষণা রকেট ত্রুটিপূর্ণ হয়ে দুর্ঘটনাক্রমে প্রতিবেশী নরওয়ের ভূখণ্ডে অবতরণ করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ নরওয়ে। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানোয় সুইডেনের সমালোচনা করেছে দেশটি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সুইডেন স্পেস কর্পোরেশন (এসএসসি) সোমবার (২৪ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলের এসরেঞ্জ স্পেস সেন্টার থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করে। এরপর এক পর্যায়ে এটি ভেঙে পড়ে এবং নরওয়ের ১৫ কিলোমিটার (৯ দশমিক ৩২ মাইল) অভ্যন্তরে পাহাড়ে পড়ে যায়।
তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি বা কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সুইডিশ স্পেস কর্পোরেশন (এসএসসি) জানিয়েছে, রকেটটি ২৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল, যেখানে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়েছিল।
মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) এসএসসির কমিউনিকেশনস প্রধান ফিলিপ ওহলসন জানান, রকেটটি পাহাড়ের এক হাজার মিটার নিচে পড়ে গেছে। নিকটতম বস্তিটি ওই এলাকা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। এসএসসি এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত করছে।
ফিলিপ বলেন, 'যখন কোনো সমস্যা দেখা দেয় তখন আমাদের কিছু রুটিন কাজ থাকে এবং আমরা সুইডিশ ও নরওয়েজিয়ান সরকার এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোকে এটি সম্পর্কে অবহিত করি।' সুইডেন স্পেস করপোরেশন জানিয়েছে, রকেটের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের কাজ চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য প্রযুক্তিগত বিবরণ তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, 'রকেট অবতরণ বা ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের বিষয়ে সুইডেনের কাছ থেকে মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ পায়নি। যখন এই ধরনের সীমান্ত লঙ্ঘন ঘটে, তখন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অবিলম্বে যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নরওয়েজিয়ান কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন।'
নরওয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক ই-মেইল বার্তায় জানিয়েছেন, নরওয়ে তার ভূখণ্ডে অননুমোদিত যেকোনো কর্মকাণ্ডকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়। তাছাড়া, রকেট ধ্বংসাবশেষ পুনরুদ্ধারের জন্য নরওয়ের ভূখণ্ডে কাজ করার জন্য সুইডেনের পূর্ব সম্মতি প্রয়োজন। রকেটের আঘাতে আশেপাশের এলাকায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা জানা যায়নি।
