অস্ট্রেলিয়ার বনে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ, ৩ বছর পর মিলল সেলিনের দেহাবশেষ

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৯

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় তিন বছর পর বেলজিয়ান পর্যটক সেলিন ক্রেমারের দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করেছে দেশটির করোনার আদালত। ৩১ বছর বয়সী সেলিন ক্রেমার ২০২৩ সালের ১৭ জুন তাসমানিয়ার প্রত্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা ‘ফিলোসফার ফলস’ -এ হাঁটার জন্য বেরিয়েছিলেন এবং তার প্রায় ১০ দিন পর তাঁর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

তাসমানিয়ার ঘন বনাঞ্চলে যাওয়ার পর তিনি আর ফিরে না আসায় ১০ দিন পর নিখোঁজের খবর দেওয়া হয়। পরে একটি ট্রেইলহেডে তাঁর গাড়ি পাওয়া যায়। উদ্ধারকারী দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক তল্লাশি চালালেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এরপরও কয়েক দফা অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল, কিন্তু বছরের পর বছর তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।

২০২৩ সালে উত্তর-পশ্চিম তাসমানিয়ায় সেই সময় নিখোঁজ বেলজিয়ান পর্যটক সেলিন ক্রেমারের গাড়ি। ছবি: তাসমানিয়া পুলিশ

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নতুন করে তল্লাশি চালানোর সময় একটি ট্রেইল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ক্রেমারের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, দুপুর ২টা ২১ মিনিট থেকে ২টা ৪২ মিনিটের মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন এবং এরপর কয়েকবার গুগল ম্যাপ ব্যবহার করেছিলেন। সর্বশেষ ইনপুটটি রেকর্ড হয়েছিল বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে। 

অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে তাঁর বন্ধু ও পরিবারের উদ্যোগে পরিচালিত ব্যক্তিগত তল্লাশি অভিযানে একটি নদীর কাছে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী অনুসন্ধানে আরও হাড়, দাঁত, পোশাক ও সেলিনের গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ নিশ্চিত করে, এগুলো ক্রেমারেরই দেহাবশেষ।

অবশেষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাসমানিয়ার করোনার ম্যাডেলিন উইলসন জানান, ২০২৩ সালের ১৭ থেকে ২১ জুনের মধ্যে ক্রেমারের মৃত্যু হয় এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

করোনারের মতে, ক্রেমার ফিলসফার ফলস ঘুরে সরাসরি গাড়ির পার্কিং এলাকায় না ফিরে ম্যাগনেট ড্যামের দিকে যাওয়া একটি অপরিষ্কার পথ ধরেছিলেন। পরে তিনি মূল পথ থেকে সরে যান এবং পথ হারিয়ে ফেলেন। তখন শীতের বিকেল তাই দ্রুত অন্ধকার হয়ে আসছিল। তাপমাত্রা ছিল প্রায় হিমাঙ্কের কাছাকাছি, অথচ তাঁর পোশাক ছিল অপর্যাপ্ত এবং বৃষ্টি বা পানি থেকে রক্ষার মতো কোনো পোশাকও ছিল না।

দেহাবশেষে একাধিক হাড় ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার কারণে হতে পারে, আবার মৃত্যুর পর নদীর স্রোতে পাথর বা ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে ধাক্কা লেগেও হতে পারে। হাইপোথার্মিয়া, আঘাত কিংবা পানিতে ডুবে মৃত্যু—তিনটিকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই ক্রেমারের মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত বলেই রায় দিয়েছেন করোনার।

প্রায় তিন বছর অপেক্ষার পর দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেমারের বোন অ্যামেলি। তিনি বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সেলিনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তাঁর স্মৃতি ও ভালোবাসা পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

উইলসন স্থানীয় কাউন্সিলের প্রতি পরামর্শ দিয়েছেন, যেন তারা ‘ফিলোসফার ফলস’ (Philosopher Falls) ট্র্যাকে প্রবেশের মুখে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করে। এবং সেখানে উল্লেখ থাকা উচিত যে, এই পথটি বিনোদনের উদ্দেশ্যে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না এবং এর উপরিভাগ জরাজীর্ণ ও অসমতল হওয়ায় তা বিপজ্জনক হতে পারে।

ইত্তেফাক/ডিডি