শুক্রবার ভোরে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরের ওপর হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। চীন ও ইউক্রেনের শীর্ষ নেতাদের সংলাপকে স্বাগত জানালেও সামরিক লক্ষ্য পূরণে অবিচল মস্কো। ইউক্রেনের পাল্টা অভিযান নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছে।
শুক্রবার ভোরে রাশিয়া আবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক স্থানে বড় আকারের হামলা চালিয়েছে। দেশের কেন্দ্রস্থলে দ্নিপ্রো শহরে রুশ হামলায় এক তরুণী ও তার তিন বছরের শিশু নিহত হয়েছে বলে শহরের মেয়র জানিয়েছেন। উমান শহরে এক আবাসন ভবনে আগুনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে কিয়েভ শহরে বিস্ফোরণ ও এয়ার রেড সাইরেন শোনা গেলেও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায় নি। কিয়েভ ও সংলগ্ন এলাকায় রাশিয়ার মোট ১১টি ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে ইউক্রেন দাবি করেছে।
বুধবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনাকে অন্যান্য দেশের পর রাশিয়াও স্বাগত জানালো। মস্কো জানিয়েছে, ইউক্রেন সংকট অবসানের জন্য যে কোনো উদ্যোগকেই সাধুবাদ দিতে প্রস্তুত। তবে তা সত্ত্বেও রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান'-এর লক্ষ্য পূরণ করা প্রয়োজন। ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গও চীন ও ইউক্রেনের শীর্ষ নেতার মধ্যে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে চীন যে এখনো ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলার নিন্দা করে নি, সেই বাস্তব এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্টলটেনবার্গ বৃহস্পতিবার মনে করিয়ে দেন, যে ন্যাটোর সদস্য ও সহযোগীরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইউক্রেনকে ইতিমধ্যে প্রায় সব সাঁজোয়া যান সরবরাহ করেছে। তার মতে, প্রায় ৯৮ শতাংশ ‘কমব্যাট ভেহিকেল' ইউক্রেনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে দখলদারী রুশ বাহিনীর হাত থেকে হারানো জমি উদ্ধার করতে যে কোনো দিন ইউক্রেন নতুন সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। তবে এমন অভিযানের দিনক্ষণ বা কৌশল সম্পর্কে ইউক্রেন নীরব রয়েছে। প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হলে উপযুক্ত সময় বেছে সেই অভিযান শুরু হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বাখমুত শহর পুরোপুরি দখল করতে প্রায় দশ মাস ধরে চেষ্টা চালিয়েও রাশিয়া সফল হয় নি। কিন্তু ইউক্রেনের জোরালো প্রতিরোধের কারণে সেই প্রচেষ্টা সফল হয় নি। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের রসদ সরবরাহের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেন, ২৪ ঘণ্টায় ১৩টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে রসদ ও যোগাযোগের পথ এখনো খোলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ইউক্রেনের জোরালো পালটা হামলার কারণে বাখমুতের দখল করা এলাকা বার বার রাশিয়ার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা দাবি করছেন। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে অভিযানে সামরিক সাফল্যের দাবি করলেও সরাসরি বাখমুতের পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেন নি।
