ডেপুটি স্পিকারের ম্যুরাল ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা, এলাকায় ক্ষোভ 

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৩, ২২:০৪

কুমিল্লার চান্দিনায় এবার বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং ওই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় পাঁচবারের সংসদ সদস্য প্রয়াত অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের ছবি সম্বলিত একটি ম্যুরাল ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। চান্দিনা উপজেলার দোল্লাই নবাবপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের দেয়ালে তৈরি করা ওই ম্যুরালটি গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা ভেঙে ফেলে। 

ঈদের বন্ধের পর রোববার (৩০ এপ্রিল) বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে জানাজানি হলে এ নিয়ে স্থানীয় এলাকার নানা শ্রেণিপেশার মানুষসহ দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ভাইরাল হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। 

এর আগেও চান্দিনার বিভিন্ন এলাকায় প্রয়াত ওই সাংসদের নামে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধনী ফলক অপসারণ, ভেঙে ফেলা ও নষ্ট করার অভিযোগ করেছেন প্রয়াত সাংসদপুত্র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু।  

জানা গেছে, দেশবরেণ্য রাজনীতিক প্রয়াত সাংসদ অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ ১৯৯৭ সালে ওই বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় দুই বছর আগে বিদ্যালয়ের দেয়ালে সাংসদের ছবি সম্বলিত ওই ম্যুরালটি তৈরি করা হয়। গত ২৩ মার্চ থেকে ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ উপ-দপ্তর সম্পাদক নাজনীন আক্তার। বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) ওই বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার এবং গ্রন্থাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। ওই দিন রাতেই দুর্বৃত্তরা ম্যুরালটি ভেঙে ফেলে। এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, অধ্যাপক আলী আশরাফের মৃত্যুর পর এখানে দলে শক্ত গ্রুপিং রয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এসব স্থাপনায়। 

তবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজনীন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ম্যুরাল ভেঙে ফেলার বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রয়াত আলী আশরাফ আমাদের দলীয় এমপি ছিলেন। তিনি বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার ম্যুরাল কে বা কারা ভেঙেছে জানা নেই। তবে একই স্থানে নতুন করে ম্যুরাল পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রৌশন আরা বলেন, ঘটনার রাতে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ছিল। তাই বিদ্যুৎ না থাকায় সিসিটিভির ফুটেজে ম্যুরাল ভাঙার দৃশ্য রেকর্ড হয়নি, এতে দৃর্বৃত্তদের সনাক্ত করা যায়নি। রোববার বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভায় ম্যুরাল ভেঙে ফেলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে একই স্থানে নতুন ম্যুরাল স্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে প্রয়াত অধ্যাপক আলী আশরাফের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু বলেন, তার বাবা চান্দিনা সংসদীয় আসনের ৫ বারের এমপি ছিলেন এবং প্রায় ৫৮ বছর এখানে রাজনীতি করেছেন। তাই প্রতিটি গ্রামে তার উন্নয়নের স্মৃতিচিহ্ন রয়েছে। গত এক বছরে ডাক বাংলোর ফলক, পিপুইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নামফলক থেকে প্রয়াত সংসদ সদস্যের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। বারির চর এলাকায় জামে মসজিদের ফলক, বাতাঘাসি এলাকায় একটি সড়কের উদ্বোধনী ফলক ভেঙে ফেলা হয়েছে। মডেল মসজিদ ও নাওতলা সিনিয়র মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর অপসারণ করা হয়েছে। 

এ ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্থাপনায় তার প্রয়াত বাবার নামে থাকা অনেক উদ্বোধনী ও ভিত্তি প্রস্তরের ফলক ভাঙা, অপসারণ ও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। এসব বিষয়ে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সিনিয়র নেতাদের অবহিত করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। 

২০২১ সালের ৩০ জুলাই সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. আলী আশরাফের মৃত্যুর পর এ আসনের উপনির্বাচনে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত সাংসদ নির্বাচিত হন। এখানে রাজনৈতিক গ্রুপিং এখন প্রকাশ্যে চলছে। বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রয়াত সাংসদপুত্র মুনতাকিম আশরাফ টিটু ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে উভয় গ্রুপে একই মঞ্চে সভা-সমাবেশ থেকে বিরত রয়েছেন।

ইত্তেফাক/পিও