রাজধানীতে জাল সনদ তৈরির মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৪ জনের একজন বুলবুল আহাম্মেদ বিপ্লব। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেপুকুরিয়া গ্রামে এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম হলেও বর্তমানে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক। এলাকাবাসী এ সম্পদের উৎস জানতে চাইলে তিনি অহংকার করে বলতেন, ‘আমি আলাদিনের চেরাগ পেয়েছি, ঘষলেই টাকা বের হয়।
আলাদিনের চেরাগ পাওয়া সেই বিপ্লব বৃহস্পতিবার (৪ মে) রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে জাল সনদ তৈরির সরঞ্জামসহ গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে।
ডিবি পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সনদ জালিয়াতি করে আসছিল একটি চক্র। এ সকল সনদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটেও দেখার ব্যবস্থা করতো চক্রটি। ফলে অনেকেই তাদের ওপর আস্থা রাখে এবং জাল সনদ কিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়া শুরু করে।
স্থানীয়রা জানান, দারুল এহসান ভিক্টরী পার্ক ঢাকা শাখায় বিপ্লবের চাকরি জীবন শুরু হয়। পরে তিনি রাজশাহী দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয়সহ দু’টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি সনদ জালিয়াতি ব্যবসা শুরু করেন। শুধু বাঘা উপজেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি তার জাল সনদে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে। এর মধ্যে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে চাকরিজীবীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
নওগাঁর ইমদাদ হোসেন নামে একজন অভিযোগ করেন ,কয়েক বছর আগে রবিউল ইসলাম নামে তার এক আত্মীয়কে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চেকের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা নেন বিপ্লব। এ ঘটনায় আদালতে একটি চেক জালিয়াতি মামলা করেন রবিউল ইসলাম। এ মামলাটি চলমান রয়েছে।
বাঘা থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, বিপ্লবের বিষয়ে শুনেছি। তবে এ সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র এখনো আমার কাছে আসেনি।
