বিনা মুগ-৮ এর বাম্পার ফলন

আপডেট : ২২ জুন ২০১৯, ২১:৩৯

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

৪ জেলায় পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত ওষুধি গুণে ভরা বিনা মুগ-৮ এর বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতি হেক্টরে এ জাতের মুগ ১.৭ টন ফলন পেয়ে কৃষক লাভবান হয়েছে বলে গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে। আগামীতে লাভজনক এ জাতের মুগের আবাদ আরো সম্প্রসারিত করতে কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ডালে মাংসের সমান, ডিমের দ্বিগুণ ও দুধের চেয়ে ৭ গুণ বেশি প্রোটিন রয়েছে। এতে ক্যানসার ও রক্তের উচ্চচাপ প্রতিরোধক অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। এ ডাল ম্যালিগন্যান্ট টিউমার প্রতিরোধক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র জানিয়েছে, বিনার হাওর, চর, দক্ষিণাঞ্চল ও বরেন্দ্র এলাকার উপযোগী ফসলের জাত ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং অভিযোজন কর্মসূচির আওতায় গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলার ১৫০ একর জমিতে এ জাতের মুগ ডালের ৩০০টি  প্রদর্শনী প্লট করে কৃষক। বিনা এসব কৃষককে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়েছে। পাশাপাশি বিনা মুগ চাষাবাদের কলাকৌশল শিখিয়েছে। প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কৃষক সঞ্জিত মণ্ডল বলেন, স্থানীয় জাতের মুগ চাষ করে হেক্টরে ৬০০ কেজি ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু বিনা মুগ-৮ চাষ করে ১.৭ টন ফলন পেয়ে লাভবান হয়েছি। এ জাত পরিবেশ সহনশীল। এতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়। এ কারণে উত্পাদন খরচও কম লেগেছে। আমার দেখাদেখি আশ-পাশের অনেক কৃষক আগামী বছর এ মুগ চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বিনা গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম আকন্দ দাবি করেন, এ মুগে মাংসের সমান, ডিমের দ্বিগুণ ও দুধের চেয়ে সাত গুণ বেশি প্রোটিন রয়েছে। এতে ক্যানসার ও রক্তের উচ্চচাপ প্রতিরোধক অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে। তাই ক্যানসার প্রতিরোধ করে ও হার্টকে সুস্থ রাখে। এ ডাল ম্যালিগ্রান্ট টিউমার প্রতিরোধক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। এর ভিটামিন বি-১, বি-৫, বি-৬ ও সিএ দেহের ওজন কমায়। মানবদেহের জন্য প্রাণিজ আমিষের চেয়ে উদ্ভিজ্জ আমিষ শ্রেয়।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, বিনা উদ্ভাবিত মুগসহ বিভিন্ন জাতের ফসলের আবাদ করে কৃষক অধিক ফলন পেয়ে লাভবান হচ্ছেন। তাই কৃষকদের মধ্যে বিনার জাত আবাদে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে।

গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, আমাদের উদ্ভাবিত জাত পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে সর্বোচ্চ ফলন দিতে সক্ষম। বিনা মুগও তাই বাম্পার ফলন দিয়েছে। গোপালগঞ্জসহ আশ-পাশের জেলাগুলোতে এ বিনা উদ্ভাবিত জাতের চাষাবাদ সম্প্রসারণ করে আমরা কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি করতে কাজ করে যাচ্ছি।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ হরলাল মধু বলেন, বিনা গোপালগঞ্জ ও আশ-পাশের জেলাগুলোর কৃষি উত্পাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের আর্থসমাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলে কৃষির নিবিড়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি আমাদের কৃষক ও কৃষির জন্য সুখবর।