বাঘায় বাবার ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার, ছেলে আটক

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ১৫:১৫

রাজশাহীর বাঘার চক আমোদপুর গ্রামের পুকুর পাড় থেকে এক ব্যক্তির ক্ষত ও বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ মে) সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের ছোট ছেলেকে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

মৃত আজিজুল আলম ওরফে আস্তুল (৫০) চক আমোদপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব প্রামানিকের ছেলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে একটি সাইকেল যোগে গাছ থেকে ঝরে পড়া আম কিনতে বের হয় একই গ্রামের খাইরুল ইসলাম। এসময় তিনি গ্রামের জনৈক শহিদুল ইসলামের পুকুর পাড়ে আস্তলকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাককে দেখে চিৎকার করে।পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।

লাশের গলা, চোখ, শরীর এবং মুখমণ্ডলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তার চেহারা ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়ো হয়েছে।

নিহতের ভাই গোলাম মোস্তফা জানান, ১৯৯৮ সালে আস্তুল তার স্ত্রী পারুল বেগমকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। এরপর পুলিশের তাকে আটক করলে তিনি ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলে আদালতের বিচারক তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর করোনা কালিন সময় তিনি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরেন এবং তার দুই সন্তানসহ প্রতিবেশিদের সঙ্গে খারাপ আচারণ শুরু করেন। নিরুপায় হয়ে তার দুই ছেলে ফারুক ও ছনি তার হাত ও পা শিকল বেঁধে ঘরে বন্ধী করে রাখেন তাকে। এভাবে একমাস অতিবাহিত হলে জানালা ভেঙে পালিয়ে যান আস্তুল।

পরে তিনি ভাই ও ভাতিজার বাড়িতে কখনো আম বাগান আবার কখনো মানুষের বাড়ির (বৈঠক খানা) বারান্ধায় শুয়ে রাত কাটাতেন। সর্বশেষ শুক্রবার (১২ মে) সকালে তার ক্ষত ও বিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বাঘা থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত থাকতে পারে সেটা অনুসন্ধান করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা করবো।

ওসি বলেন, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মৃত আস্তুলের ছোট ছেলে ছনি(২০)কে  আমরা থানায় নিয়ে এসেছি।

ইত্তেফাক/আরএজে