গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন

আজমতউল্লা শক্তিশালী অবস্থানে, অবস্থান সুসংহত করছেন জায়েদা 

আপডেট : ১৪ মে ২০২৩, ০৭:০১

৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে প্রায় ৩৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দেশের সর্ববৃহৎ গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নগরীর সর্বত্র যেমন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে, তেমনি এ নির্বাচন ঘিরে দেশব্যাপী রয়েছে ব্যাপক ঔৎসুক্য। মেয়র পদে এ নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী অংশগ্রহণ করছেন না। সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর আইনি জটিলতায় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় মেয়র পদের নির্বাচনি জৌলুস খানিকটা হলেও স্তিমিত বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে ৫৭টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর এবং ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মধ্যে নির্বাচনি প্রচারণায় কমতি নেই।

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টারে নগরীর রাস্তাঘাট অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা ছেয়ে গেছে। নির্বাচনবিধি অনুযায়ী, দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিরামহীন চলছে মাইকিং ও প্রচার-প্রচারণা। মেয়র পদে পাঁচ জন প্রার্থীর নাম কমবেশি ঘুরে ফিরে আসছে। তাদের নির্বাচনি প্রচারণাও চলছে নগরীর সর্বত্র। বাকি তিন জন মেয়র প্রার্থীর প্রচারণা নেই বললেই চলে। যে পাঁচ জন প্রার্থীর নাম কমবেশি আলোচনায় আসছে তারা হলেন—আওয়ামী লীগ মনোনীত আজমতউল্লা খান (নৌকা), সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন (টেবিল ঘড়ি), জাতীয় পার্টি মনোনীত এম এম নিয়াজউদ্দিন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত গাজী আতাউর রহমান (হাতপাখা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম রনি (হাতি)। এদের মধ্যে আবার শীর্ষে রয়েছেন দুই জন প্রার্থী—আজমতউল্লা খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে আজমতউল্লা খান শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা জায়েদা খাতুন ছেলের জনপ্রিয়তা ও মানুষের আবেগ নিয়ে তার অবস্থান ক্রমশ সুসংহত করছেন এমন ধারণা নির্বাচনি পর্যবেক্ষক অনেকের। এদিকে নির্বাচনি উত্তাপ যতটুকু থাকুক, খোদ নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু বা নিরপেক্ষ হবে সে সংশয়ের দোলাচলে আছেন ভোটাররা। বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তাদের মধ্যেও রয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আস্থার সংকট। এমনকি বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের মধ্যেও আস্থার অভাব রয়েছে—এমনটাই ভাবছেন নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি রয়েছে ইভিএম নিয়ে অজ্ঞতা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এর আগে কোনো নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে কোনো ধারণা বা অভিজ্ঞতা না থাকায় এবং নানান জনের নানান মতামত ও সন্দেহ-অবিশ্বাস থাকার  কারণে ভোটাররা ইভিএম নিয়ে রয়েছেন সংশয়ে।

মেয়র প্রার্থীদের প্রচারণা আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আজমতউল্লা খান গতকাল শনিবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি দুপুরের দিকে টঙ্গীর চেরাগআলী মার্কেটের ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে প্রচারণা শুরু করেন। তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এলাকার ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে লিফলেট বিতরণ করে নৌকা প্রতীকে ভোট চান। বিকালে তিনি নগরীর কাশিমপুর থানার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন এবং কাশিমপুর বাজারসহ কয়েকটি স্থানে পথসভায় বক্তব্য রাখেন। গণসংযোগকালে তার সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দীসহ স্থানীয় নেতারা। তারা এসব পথসভায় বক্তব্য রাখেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘আপনাদের চেষ্টা যেন বৃথা না যায়। ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকার পক্ষে, শেখ হাসিনার সালাম পৌঁছে দিয়ে তার পক্ষে ভোট চাইবেন।’

টেবিল ঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন গতকাল (শনিবার) সকালে তার ছয়দানার বাসভবনে আগত কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি কর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যে কোনো ভয়ভীতি উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানান। বিকালে তিনি নগরীর পূবাইল থানার চারটি ওয়ার্ডে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। তিনি ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে এলাকার হায়দরাবাদ, আক্কাস মার্কেট, মীরের বাজার, কলেজ গেট, পূবাইল বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ ও টেবিল ঘড়ি মার্কায় ভোট চান। এ সময় জায়েদা খাতুন বলেন, ‘আমি, আমার ছেলের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে, তার জবাব দিতে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছি। 

জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এম এম নিয়াজউদ্দিন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গাজীপুর সদর মেট্রো থানা এলাকায় গণসংযোগ করেন। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান শনিবার নগরীর কাশিমপুর থানার এক থেকে ছয় নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন। একই দিন হাতি মার্কা প্রতীকের প্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম রনি নগরীর পূবাইল থানা এলাকার কয়েকটি স্থানে তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ ও পথসভা করেন।
 

ইত্তেফাক/ইআ