শনিবার (১৩ মে) মিরপুরে অনুষ্ঠিত হয় চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) অলিখিত ফাইনাল। এদিন মুখোমুখি হয় গেল আসরের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও আবাহনী লিমিটেড। আর অলিখিত এই ফাইনালে শেষ অবধি জয় পায় আবাহনী। এই জয়েই শেখ জামালের কাছে গত আসরে হারানো ট্রফি তাদের হারিয়েই আবার পুনরুদ্ধার করে নিল ঢাকা আবাহনী।
গতকাল মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে ৭ উইকেটে ২৮৫ রান করে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। রান তাড়া করতে নেমে ৪ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী। আর এ জয়েই সব মিলিয়ে ঢাকার শীর্ষ ক্লাব টুর্নামেন্টে ২২তম শিরোপা জিতে নেয় তারা। পয়েন্ট তালিকায় ১৬ ম্যাচ খেলে ১৪ জয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আবাহনী। দুইয়ে থাকা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের জয় আবাহনীর চেয়ে এক ম্যাচ কম।
এদিন আগে ব্যাটিং করতে নেমে আবাহনীর তানভীর আর খুশদিলের ঘূর্ণিতে ১৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। দলের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ে ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও তাইবুর রহমান ৮১ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামাল দেন। রাব্বি ৪০ রানে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। রাব্বি ফিরলে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে সঙ্গে নিয়ে তাইবুর আরো ৪২ রান যোগ করেন। তাইবুর ৫৩ রানে ফিরলে ভাঙে সোহানের সঙ্গে এই জুটিও। এবার সোহানের সঙ্গী হন পারভেজ রসুল। দুজনে জুটি গড়ে ৮৩ রান যোগ করেন। পারভেজ ৪২ রানে ফিরলেও সোহান ছিলেন অবিচল। তার ৭০ বলে ৮৯ রানের ইনিংসে চ্যালেঞ্জিং ভিত পায় শেখ জামাল। শেষদিকে ক্যামিও ইনিংস খেলেন জিয়াউর রহমান। তার ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ২৮ রান। শেষ অবধি নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে শেখ জামাল সংগ্রহ করে ২৮২ রান। এছাড়া আবাহনীর হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন তানবীর ইসলাম-সাকিব ও একটি করে উইকেট নেন খুশদিল-সাইফউদ্দিন।
২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আবাহনীর দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় এবং নাঈম শেখ শুরুটা করেন দারুণ। তারা দুজন মিলেই স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ১৪৫ রান। ৭৯ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে নাঈম আউট হলে ভাঙে এই জুটি। নাঈম ফেরার পর বিজয়ও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। ৮১ বলে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন তিনি। ৪ রানের ব্যবধানে আনাহনীর দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে ম্যাচে ফিরে আসার সম্ভাবনা জাগান শেখ জামালের বোলাররা। ওপেনিং জুটি পতনের পর এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও আরেক প্রান্তে আফিফ হোসেন ধ্রুব খেলছিলেন দারুণ। তার ব্যাটেই আবাহনীর জয়ের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেননি শেখ জামালের বোলাররা।
শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৪ উইকেটে জয় পায় আবাহনী। শেখ জামালের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি করে উইকেট নেন পারভেজ রসুল ও তাইবুর রহমান। ১টি করে উইকেট জমা হয় আরিফ আহমেদ-সাইফ হাসানের ঝুলিতে।

