চট্টগ্রাম অনোয়ারার রায়পুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত আশরাফ আলী বলেন, ঘর থেকে যা নিয়ে এসেছি তাই খাচ্ছি। এখনো কেউ কিছু খেতে দেয়নি।
আশ্রয়কেন্দ্রেটিতে মানুষের ভিড় থাকলেও সকাল থেকে পুরুষেরা খাবার আনতে বেরিয়ে পড়েছে। ওখানকার অবস্থানরত রেশমা আক্তার জানান, আসার পর থেকে এক গ্লাস পানিও খেতে দেয়নি কেউ।
আশ্রয়কেন্দ্রের অপেক্ষাময় পরিস্থিতির কথা জানিয়ে আয়েশা আক্তার নামে এক গৃহবধূ বলেন, চারিদিকে নিস্তব্ধ, মাঝে মাঝে মানুষের হাঁটাচলার শব্দ, একটু-আধটু বৃষ্টি, সবাই এক জায়গায় জড় হয়ে আছি, ছেলেটা জেগেছিল আমার সঙ্গে মেয়েটা কোলেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। সবাই বলাবলি করতেছে এটা নাকি আগেরকার ঘুর্ণিঝড়গুলোর চেয়ে ভয়ঙ্কর হবে। একজন এসে বলতেছে শেষরাতে তুফান শুরু হবে আবার কেউ বলতেছে দিনে হবে। শুধু সারারাত ফজর ফুটার অপেক্ষায় ছিলাম।
রোববার (১৪ মে) সকালে উপজেলার রায়পুরে অবস্থিত বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে ইত্তেফাকের সংবাদদাতা।
পূর্ব গহিরা ৯নম্বর ওয়ার্ডের মুজিবকেল্লা আশ্রয়কেন্দ্র দেখা গেছে, মুজিবকেল্লায় গৃহপালিত পশু গরু-ছাগল এনে রাখা হয়েছে। তার পার্শ্ববর্তী আশ্রয়নকেন্দ্র অবস্থান করেছেন স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। তবে সারারাত পার হয়ে গেলেও পরিষদ কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনোরূপ খাদ্যদ্রব্য দেওয়া হয়নি বলে জানান আশ্রয়কারীরা।
একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পানি এবং শৌচাগারের সমস্যা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে দক্ষিণ গহিরা, উত্তর গহিরায় আশ্রয়কেন্দ্রে কাউকে আশ্রয় নিতে দেখা যায়নি। মধ্য গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাতে তিন পরিবার আশ্রয় নিলেও সকালে ছিল এক পরিবার।
উপকূলীয় রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান আমিন শরীফ বলেন, সারারাত আমি ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম। শত চেষ্টা করেও সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা সম্ভব হয়নি। মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করাসহ বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেকে আনা হয়েছে তবুও বেশিরভাগ মানুষ নিজ ঘরে অবস্থান করেছে।
তিনি বলেন, কোস্টে গার্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার দেওয়া হয়েছে। আর কয়েকটাতে রাতে দেওয়া হয়নি সেগুলোতে সকালে দেওয়া হবে।
উপকূলীয় সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক কোনো বাতাস নাই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু নাসের বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রের লোকজনকে রান্না করে খাওয়ানোর জন্য এবং বিতরণের জন্য দুই মেট্রিক টন চাল, ১৫ হাজার নগদ টাকা, ৫০ কাটন ড্রাই কেক, ৩০ কাটন টোস্ট বিস্কুট দেওয়া হয়েছে। আরও সাড়ে চার টন খাদ্য শস্য মওজুদ রয়েছে। নগদ টাকা লাগলেও দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, যারা আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছে তারা ঘর থেকে খেয়েই এসেছে তাই রাতে খাবার দেওয়া হয়নি, তবে কোস্টগার্ড আশ্রয়ণকেন্দ্রে যারা উঠেছে তাদের রাতের খাবার দেওয়া হয়েছে।
