সিলেটে ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষক   

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ০৫:০১

বৃহত্তর সিলেটে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে বোরো ধানের সোনালি হাসি। কিন্তু কৃষকরা তাদের উত্পাদিত ধানের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন না। তারা বাধ্য হয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে ফড়িয়াদের নিকট কষ্টের ধান বিক্রয় করে দিচ্ছেন। এতে হাজার হাজার মণ ধান ফড়িয়াদের গুদামে চলে যাচ্ছে। পরে ফড়িয়ারা এই ধান সরকারি গুদামে বিক্রয় করবে উচ্চ দামে। অথচ কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান সেজন্য সরকারি খাদ্যগুদামে ধান-চাল ক্রয় কর্মসূচি শুরু হয় গত ৭ এপ্রিল। এদিন  খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সারা দেশে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। কিন্তু সিলেট বিভাগে সরকারি গুদামে বিশেষ করে ধান কেনার গতি কম  থাকায় বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা বিপাকে। অনেকেই তাদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রতি মণ ধান  ৮৫০- ৯৫০  টাকায় বিক্রয় করছেন। অথচ সরকারি মূল্য প্রতি মণ ধান ১২ শত টাকা।

সিলেট বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন মঙ্গলবার বিকালে ইত্তেফাককে বলেন, সোমবার পর্যন্ত সারা বিভাগে ধান কেনা হয়েছে ৩০৮ টন ও মিলারদের কাছ থেকে  চাল কেনা হয় ২ হাজার ৮২৭ টন। ধান কেনার গতি কম সম্পর্কে  তিনি বলেন, প্রকৃত কৃষকদেরকে প্রথমে অনলাইনে আবেদনের পর  তাদের মধ্য থেকে লটারি হবে।  লটারিতে যারা টিকবেন সেসব কৃষক সরকারি গুদামে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রয় করতে পারবেন। ঐ কর্মকর্তা জানান, এখন তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শিগিগরই ধান কেনা জোরদার করা হবে।  সূত্র মতে, এবার বোরো মৌসুমে সিলেটের চার জেলায় ৩৫ হাজার ৫৩৬ মে. টন ধান ও ৪৪ হাজার ৪৫৬ মে.টন চাল মিলারদের কাছ থেকে সরকার ক্রয় করবে। সিলেট বিভাগের ৪৭টি খাদ্যগুদামে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ৩০ টাকা কেজি ও চাল ৪৪ টাকা কেজিতে ক্রয় করা হচ্ছে।

বোরো প্রধান সুনামগঞ্জ জেলায় এবারের বোরো মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টন ধানের উৎপাদন হয়েছে। সরকার কিনবে মাত্র ১৭ হাজার ৪৮৩ টন ধান। সরকারি খাদ্য গুদামে ধান যে পরিমাণেই  কেনা হোক, ওখানে ধান কেনা শুরু হলেই হাওর জুড়ে ধানের ন্যায্যমূল্য পান কৃষকরা। সোমবার পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় ২২৪  টন ধান  ও ৮০৯ মে.টন সিদ্ধ চাল কেনা হয়।জেলার বড় উপজেলা ধর্মপাশায় এখনো ধান কেনার জন্য লটারিই হয় নি। এ কারণে কৃষকরা কম দামে ধান বিক্রয় করে ঠকছেন।

কৃষি অ্যাপে আগ্রহ নেই: অন্যদিকে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে এবার সুনামগঞ্জ জেলার সাত উপজেলায় ধান কেনা হবে। তবে এই সাত উপজেলায় এখনো ধান কেনার জন্য কৃষক বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়নি। কৃষি অ্যাপে আবেদনেও কৃষকের আগ্রহ কম। রবিবার পর্যন্ত  শান্তিগঞ্জে কোনো কৃষকই আবেদনই করেননি। সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়া উপজেলায় জামালগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহাব উদ্দিন জানালেন, ধান দেওয়ার উপযোগী কৃষক আছেন ৩৫ হাজারের মতো। আবেদন এত কম হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বললেন, আবেদন করা কেবল শুরু হয়েছে, কৃষকরা পর্যায়ক্রমে আসতেই থাকবেন। কৃষকরা এবার গোদামমুখী হচ্ছেন না—অনলাইনে আবেদনকে তারা ঝামেলা মনে করছেন। তাই  ১২ শত টাকার ধান ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা মণে বিক্রয় করছেন। 

সুনামগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম ভূঞা বললেন, কৃষক তালিকা সংগ্রহ করে উপজেলায় উপজেলায় ক্রয় কমিটির সভা করে দ্রুতই কেনা হবে ধান।

 

ইত্তেফাক/ইআ