দেশে শিশুশ্রম দূরীকরণে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে শিশু শ্রম নির্মূলে ২০২১-২০২৫ জাতীয় কর্ম পরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক কর্মশালায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে ১৬ কোটি শিশু। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাঁচ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৬.৮ শতাংশ শ্রমে নিয়োজিত।
অনুষ্ঠানে শ্রম ও র্কমসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘শিশুশ্রম রোধে বাংলাদেশ এরই মধ্যে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্ব্বয়ের মাধ্যমে শিশুশ্রম রোধের পাশাপাশি শিশুদের সঠিক বিকাশে ভূমিকা পালন করছে।’
অনুষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা বিভাগের ওআইসি প্রধান এলিসা কাল্পনা বলেন, ‘শিশুশ্রম রোধে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো প্রশংসার দাবিদার।’ এই পদক্ষেপগুলো এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখায় ইউনিসেফকেও তিনি ধন্যবাদ জানান।
এই লক্ষ্য অর্জনে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে শিশুশ্রম নির্মূলের জন্য একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বা ন্যাশনাল প্ল্যান অব অ্যাকশন (এনপিএ) গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনা বর্ণিত পাঁচটি মূল কৌশলগত উদ্দেশ্য হল: ১. শিশুশ্রমের প্রতি আগ্রহ কমানো, ২. বিপজ্জনক ও সবচেয়ে মন্দ কাজ থেকে শিশুদের প্রত্যাহার করা, ৩. কর্মক্ষেত্রে শিশুদের সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ৪. অংশীদারিত্ব ও একাধিক খাতের সম্পৃক্ততা এবং ৫. এনপিএর যথাযথ বাস্তবায়নের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন।
শ্রম ও ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এহসান-ই-এলাহীর সভাপতিত্বে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফে ওআইসির প্রতিনিধি এমা ব্রিগহ্যাম, ইউনিসেফ বাংলাদেশে ওআইসির উপপ্রতিনিধি নাতালি ম্যাককয় প্রমুখ।
