শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নির্বাচনে একশ বছরের ইতিহাস ভাঙল তুরস্ক

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ২০:৫১

তুরস্কের জাতীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি। তবে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল কিলিচদারোগলুর চেয়ে এগিয়ে আছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

রোববার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত হয় তুরস্কের ইতিহাসে শত বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দেশটির গত একশ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়াচ্ছে। কারণ কোনো প্রার্থীই এককভাবে ৫০ শতাংশ ভোট পাননি।

দ্বিতীয় রাউন্ডে লড়াই হবে এরদোয়ান আর কিলিচদারোগলুর মধ্যে। আর ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৮ মে পর্যন্ত।

এই নির্বাচনে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, এরদোয়ান পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। তার প্রধান কামাল কিলিচদারোগলু পেয়েছেন ৪৩ দশমিক ১২ শতাংশ আর সিনান ওগান পেয়েছেন ৫ দশমিক ২ শতাংশ ভোট।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন পার্লামেন্টের ৬০০ এমপি নির্বাচনেও ভোটগ্রহণ হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়েছে এরদোয়ানের দল একে পার্টি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট পিপলস অ্যালায়েন্স। পিপলস অ্যালায়েন্স পেয়েছে ৩২৩টি আসন। এর মধ্যে একে পার্টি একাই ২৬৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স জয়ী হয়েছে ২১১ আসনে।

১৯২৩ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের তুর্কি ভাষী এলাকা আনাতোলিয়া ও পূর্ব থ্রাস নিয়ে মুস্তাফা কেমাল (পরবর্তীতে কেমাল আতাতুর্ক)-এর নেতৃত্বে আধুনিক তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের তথা তুর্কি জাতিরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৩৮ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আতাতুর্ক তুরস্কের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। 

কামাল আতাতুর্ক ক্ষমতা গ্রহণের পর তুরস্ককে একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেন। ১৯২৩ সালে তিনি তুরস্ককে একটি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন। তিনি হন প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট।

তখনকার সময়ের নির্বাচনগুলো ছিল মূলত আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ শুধুমাত্র সিএইচপি প্রার্থীদের তুর্কি সংসদে আসন জয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু ১৯৫০ সালের নির্বাচনের পর দেশটির রাজনীতিতে আসে পরিবর্তন। আসে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। ডেমোক্র্যাট পার্টি, একটি রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতৃত্ব, একটি বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে।

১৯৪৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দেশটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেয়। মূলত উদ্ভূত কিছু পরিস্থিতি মোকাবিলায় এর কোনো বিকল্প ছিল না দেশটির সামনে। যুদ্ধের পর দেশটি জাতিসংঘ ও ন্যাটোতে যোগ দেয়। এ সময় থেকে তুরস্কে বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন হয়। 

১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে। ফলে ১৯৬০, ১৯৭১ ও ১৯৮০ সালে তুরস্কে সামরিক অভ্যুত্থান হতে দেখা যায়। দেশটিতে সর্বশেষ সামরিক অভ্যুত্থান চেষ্টা ঘটে ১৯৯৭ সালে। কিন্তু পরে আবার দেশটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু ২০১৩-তে গাজি পার্কের বিক্ষোভ ও ২০১৫-তে সুরুক বোমা হামলা পুনরায় অস্থিরতার জন্ম দিয়েছিল। 

সর্বশেষ ২০১৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা হয় তবে শেষ পর্যন্ত তুর্কি জনগনের ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়। ২০১৭ সালের গণভোটের পর থেকে রাষ্ট্রপতিও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হচ্ছেন। 

২০১৮ সালে দেশটিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা শুরু হয়। বর্তমানে দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার রয়েছে। ২০২৩ সালের রাষ্ট্রপতি ও সংসদীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তুরস্কের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী রূপ নেবে তা দেখা বাকি আছে।

ইত্তেফাক/এএএম