‘ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার: একটি স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন’

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ২১:২৫

মসলিনে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সম্ভাবনা সেমিনারে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহ্ আলিমুজ্জামান তার বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মঙ্গলবার (১৬ই মে) রাজধানীর আগারগাঁও এ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে 'বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার এবং এ খাতে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সম্ভাবনা' - শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে সেমিনারে টি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের কারিগর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহ্ আলিমুজ্জান,  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম মনজুর হোসেন এবং মসলিন গবেষণা কমিটির প্রধান পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সদস্য মো. আইয়ুব আলী।  এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মসলিন মূল্যায়ন কমিটির প্রধান ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো: আবুল কাশেম এবং বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, 'বঙ্গবন্ধু কন্যার আহবানে ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রচেষ্টায় ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার নতুন সংযোজন। মসলিনের মূল্যমান কমানো এবং ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে। মসলিন যদি আমরা ব্যবহার উপযোগী করতে না পারি তাহলে এ গবেষণার মূল্য থাকবে না। গবেষকরা যে কাজটি করেছেন এটা আমাদের বাণিজ্যিকীকরণে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিতে হবে। প্রাইভেট খাতে যদি ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে তারা বিভিন্ন রকম ডিজাইন করতে পারবে, রপ্তানি করতে পারবে। এর ফলে দাম কমিয়ে আনতে পারবে। এটা করা গেলে আমরা জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারব।' 

সেমিনারে মসলিন পুনরুদ্ধারের কারিগর এম মনজুর হোসেন মসলিন পুনরুদ্ধারের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং বলেন এই পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। আমরা দেশের এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে মসলিন কাপড় সংগ্রহ করেছি এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে মসলিনের আসল ফুটি কার্পাস তুলার জাত সনাক্ত করেছি এবং গবেষণার মাধ্যমে পুনরায় ১৭০ বছরের পুরনো মসলিন পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছি।

অধ্যাপক ড.  শাহ্ আলিমুজ্জান বলেন, 'মসলিন পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পুরো কৃতিত্ব তারই প্রাপ্য। আমরা শুধুমাত্র তার সৈনিক হিসেবে কাজ করে গেছি এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। আশা করছি আমরা খুব দ্রুতই মসলিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করতে পারবো। ' 

দেশের বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল বলেন, 'মসলিনের পুনরুদ্ধার আমাদের জন্য সত্যিই গর্বের বিষয়। আমি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরেছি সবাই মসলিনের প্রশংসা করে। বাণিজ্য করণের পর আমরা গ্লোবাল সেমিনার করে বিশ্ব দরবারে মসলিনের কথা তুলে ধরতে চাই। কেউ যেন মসলিন বলে অন্য কোন কাপড় যেন বিক্রি করতে না পারে আমাদের সেই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।' 

মসলিন মূল্যায়ন কমিটির প্রধান ও বুটেক্সের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবুল কাশেম বলেন, 'মূল্যায়ন কমিটির প্রধান হিসেবে কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। এরজন্য আমাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কাপাসিয়াসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হয়েছে। একটি মসলিন শাড়ী বুনতে প্রায় পাঁচ-ছয় মাস সময় লেগে যায় যার জন্য মসলিনের মূল্য এত বেশি। তবে উচ্চমূল্য হওয়া সত্ত্বেও আমরা আশা করছি চাহিদা অনুযায়ী মসলিন শাড়ী সরবরাহ করতে হিমশিম খেতে হবে।' 

উল্লেখ্য, দেশের তৈরি ঢাকাই মসলিনের গৌরব একসময় সারা বিশ্বে ছিল। বিভিন্ন কারণে প্রায় ১৭০ বছর আগে এই গৌরবময় ঢাকাই মসলিন হারিয়ে যায়। তবে ২০১৮ সালে মসলিন পুনরুদ্ধারে সরকারের নেওয়া নতুন উদ্যোগের ফলে আবারও ঢাকাই মসলিন বিশ্ব মাতাবে বলে আশা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

ইত্তেফাক/এআই