বন্ড সুবিধা পাবেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২০:৫৫

রপ্তানির উদ্দেশে যারা স্বর্ণ আমদানি করবেন তাদের বন্ড সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। গতকাল রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘স্বর্ণ মেলা’র উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান।

এনবিআর সদস্য (আয়কর) কানন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সভাপতি গঙ্গা চরণ মালাকার, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও রাজস্ব কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, তৈরি পোশাক ও চামড়া শিল্পের মতো যারা স্বর্ণের কাঁচামাল রপ্তানির উদ্দেশে আমদানি করবে তাদের বন্ড সুবিধা দেওয়া হবে। যারা বন্ড সুবিধা পাবেন তাদের আমদানি করা সব স্বর্ণ রপ্তানি করতে হবে। বন্ড সুবিধায় আনা স্বর্ণ খোলাবাজারে বিক্রি করা যাবে না।

সাধারণ মানুষ বিদেশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণ আমদানি করতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি আনলে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। তবে বিদেশ থেকে স্বর্ণালঙ্কার আমদানি করতে পারবে না বলে জানান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

তিনি বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঁচ লাখ টাকা নিতে বলেছি। আর এ লাইসেন্স তিন বছর পরপর নবায়নের জন্য এক লাখ টাকা নেওয়ার কথা এনবিআর থেকে বলা হয়েছে। এটিই চূড়ান্ত হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ীরা জড়িত নন। চোরাচালানে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রয়েছে। যারা এখন আর সুবিধা করতে পারবেন না।

এনবিআর সদস্য (আয়কর) কানন কুমার রায় বলেন, এসআরও ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ। পরবর্তী সময়ে এ ধরনের এসআরও হবে কি না- তা আমি জানি না। তাই এ সময় অপ্রদর্শিত স্বর্ণ ঘোষণা দিয়ে বৈধ করবেন। আর এ সুযোগ নিয়ে যারা স্বর্ণ বৈধ করবেন না তাদের জন্য ভালো কোনো বার্তা আমরা দিতে পারব না।

গতকাল শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলায় কাট ও পোলিশড ডায়ামন্ড প্রতি ক্যারেট ৬ হাজার টাকা, স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার প্রতি ভরি ১ হাজার টাকা ও রুপা প্রতি ভরির জন্য ৫০ টাকা কর দিয়ে অপ্রদর্শিত সোনা, রুপা বৈধ করার সুযোগ রয়েছে।

গতকাল মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে কর অঞ্চল ভিত্তিতে বিভিন্ন স্টল ভাগ করা দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তাদের অপ্রদর্শিত স্বর্ণ বৈধ করতে মেলায় এসেছেন। কিভাবে কি করতে হবে বিস্তারিত প্রক্রিয়া বুঝে নিচ্ছেন কর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে।