একজন ‘প্রণব মুখার্জি’ কি হতে পারবেন অধীর চৌধুরি?

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২১:৪৫

 

পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের রাজনীতি

তারিক হাসান

 

ফের একবার দিল্লিতে সংসদে জাতীয় কংগ্রেসের মুখ একজন বাঙালি। দীর্ঘদিন এই ভূমিকায় ছিলেন প্রণব মুখার্জি। তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে যাওয়ার পর দায়িত্ব বর্তেছিল মল্লিকার্জুন খড়গের হাতে। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় ফল পেয়েছে কংগ্রেস। হেরে গেছেন মল্লিকার্জুনও। ভাঙা দলের হাল সামলাতে সোনিয়া গান্ধী ভরসা করেছেন আরেক বাঙালির ওপর। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং এমপি অধীর চৌধুরি। তাকেই ভারতে সংসদে কংগ্রেসের দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন সোনিয়া গান্ধী।

চার বারের এমপি অধীরের ইমেজ ‘রবীনহুডের’ মত। এলাকায় প্রভাব অপরিসীম। এবার পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের ফল খারাপ হয়েছে। ভোটও অনেকটা কমেছে। মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপিই পশ্চিমবঙ্গে বেশির ভাগ লোকসভা আসন জিতেছে। তারপরও তাকে হারাতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি।

স্বাধীন ভারতে এর আগে সংসদে একবারই কংগ্রেসের দলনেতা বাঙালি হয়েছিলেন। তিনি প্রণব মুখার্জি। তবে তিনি বিরোধী নয়, সরকারি দলে থাকার সময় কংগ্রেসের দলনেতা হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ সরকার গড়ে। মনমোহন সিং হন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীই সরকারি দলের নেতা হয়ে থাকেন। কিন্তু মনমোহন সিং ছিলেন রাজ্যসভার সদস্য। সে কারণে প্রণবকে দলনেতা করা হয়। সংসদে ফ্লোর ম্যানেজার হিসেবেও প্রণব মুখার্জির খ্যাতি ছিল ভারত জোড়া। কোনো বিলের জন্য লোকসভা বা রাজ্যসভায় প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে তার জুড়ি মেলা ছিল ভার। ২০০৪ সালে গড়া প্রথম ইউপিএ সরকারে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন বামদের প্রভাব ছিল অনেক বেশি। ৬৩ জন এমপি ছিল তাদের। ২০০৮ সালে পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে সমর্থন প্রত্যাহার করে বামরা। বিপদে পড়ে ইউপিএ সরকার। কয়েকদিনের মধ্যে অন্য কয়েকটি দলের সমর্থন জোগাড় করে সরকার বাঁচিয়ে ফেলেন তিনি। একই সঙ্গে জোটে এনে ফেলেন মমতা ব্যানার্জিকে। মমতা তখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রবল শক্তিধর হয়ে উঠেছেন। ফল? ২০০৯ সালের লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ৪২-এর মধ্যে ২৬ আসন পেল। বামদের ৩৪ বছরের শাসনামলের অবসানের প্রেক্ষাপট রচিত হলো।

অধীর চৌধুরি সর্বভারতীয় রাজনীতিতে দক্ষ না হলেও, সব দলের কাছে পরিচিত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তাকে পছন্দ করেন লড়াকু ইমেজের জন্য। বামদের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। মমতা বিরোধী হিসেবেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিচিত। তার জাতীয় কংগ্রেসে উত্থান, মমতা ব্যানার্জির দলত্যাগের সময় থেকে। এক সময় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন।

সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর একলা চলে শক্তি বাড়ানোর ওপর নজর দিয়েছেন সোনিয়া। অধীর চৌধুরিকে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ভাবমূর্তির কারণে। যেমনটা ইন্দিরা গান্ধী বেছেছিলেন প্রণব মুখার্জিকে। বিশ্বস্ত কিন্তু উচ্চ অভিলাষী নন। দলই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পদের মোহ নেই। তাই রাহুল গান্ধী রাজি না হওয়ায় লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন একটাই প্রশ্ন, অধির কী পারবেন প্রণব মুখার্জির যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে উঠতে? সময় তার উত্তর দেবে। হাতে পাঁচ বছর সময় আছে। এই সময়ে তিনি নিজেকে গড়ে নিতে পারবেন। বর্তমানে বয়স ৬৩ বছর। এমপি পদে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আগামীতে দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পড়ে রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি কি করেন সেদিকেই সবার নজর।