রোববার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

খরচ কম, লাভ বেশি

আপডেট : ২৬ মে ২০২৩, ১১:০২

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে বাদামচাষ বেড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে বাদামের ফলনও ভালো হয়েছে। চরের মাটিতে অন্যান্য ফসলের তুলনায় বাদাম চাষে ঝুঁকি কম, তাই কম খরচে অধিক ফলন সঙ্গে বেশি লাখ হওয়ায় খুশি কৃষক।

জানা গেছে, প্রতি বছর শাহজাদপুরেন গালা ও সোনাতনী ইউনিয়নের যমুনা নদীর চরের কৃষকরা জেগে উঠা চরে বাদামের চাষ করে থাকেন। যমুনা নদীর বড় চামতারা, ছোট চামতারা, কুরশী, বারো পাখিয়া, বাঙালা, রতনদিয়া, জগতলার চর, হাতকোরা, ভেড়াখোলা, বেনুটিয়ার চরে ব্যাপকহারে বাদামের চাষ হয়। এছাড়াও নদীর তীরবর্তী পশ্চিমপাড়ে আরো কিছুসংখ্যক জমিতে এ চাষ হয়ে থাকে।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলন হয়েছে। চরের মাটি বেলে দো-আঁশ, অধিক তাপমাত্রা ও মাঝারি বৃষ্টিতে দেশীয় জাতের ও চীনা বাদামের ব্যাপক ফলন হয়। কৃষকরা সাধারণত এই দুই জাতের বাদামের চাষ করে বেশি লাভবান হন। বাদামের চাষে খরচ কম লাগে, সেচ ও নিড়ানির কোনো প্রয়োজন হয় না। অল্প দিনেই এর ভালো ফলন পেয়ে এবং উৎপাদিত বাদাম বাজারে ভালো দামে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

ছোট চামতারা গ্রামের চাষী রহমত আলী বলেন, এ বছর আমি দুই বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছি। বিঘায় ১২ মণ ফলন পেয়েছি। অন্যান্য ফসলের তুলানায় বাদামে লাভ বেশি। তাই প্রতি বছরই আমি বাদাম চাষ করে থাকি। আগামী বছরে আরও বেশি জমিতে বাদামের চাষ করব।

বেনুটিয়া গ্রামের চাষী বাচ্চু মিয়া জানান, আমি চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। এ বছর বাদামের বাজারদর ভালো। বর্তমানে শুকনো বাদাম প্রতি মণ চার হাজার থেকে চার হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাহজাদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বছর যমুনার চরের কৃষকরা বিঘাপ্রতি ১০-১৩ মণ বাদামের ফলন পেয়েছেন। চরাঞ্চলের মাটি বাদাম চাষের উপযোগী হওয়ায় দিনদিন বাড়ছে বাদাম চাষ। আরো বৃদ্ধি করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের চাষের পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, যমুনা চরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপকহারে বাদামচাষ করেছেন কৃষকরা। আমরা যমুনা চরের কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে সার ও ঢাকা-১, ঢাকা-৪ বাড়ি চীনা বাদাম, বিতরণ করেছি। এর চাষে কৃষকরা বেশি ফলন পাচ্ছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/আরএজে