দুই মাস পর পর বিএসটিআইকে ফল পরীক্ষা করতে হবে :হাইকোর্ট

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২১:৫৪

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দুই মাস পর পর বাজারে থাকা মৌসুমি ফলমূল পরীক্ষার জন্য বিএসটিআইকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ফলমূলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ফরমালিনের ব্যবহার রোধে সরকারি সংস্থাটিকে এই পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এছাড়া স্থলবন্দরগুলো দিয়ে যাতে কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য দুই মাসের মধ্যে সরকারকে সেখানে কেমিক্যাল টেস্টিং ইউনিট স্থাপন করতে বলা হয়েছে।

গতকাল আমসহ মৌসুমি ফলে ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার রোধ সংক্রান্ত মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে ফরমালিন পরীক্ষায় আধুনিক যন্ত্র ক্রয়ের বিষয়টি উঠে আসে। তখন আদালত বলে, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এজন্য খাদ্যপণ্য ভেজালমুক্ত রাখতে হবে। সরকার যে কোনো কিছুতে অর্থ বরাদ্দে কোনো কার্পণ্য করছে না। কিন্তু সেটার যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আদালত বলে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক কাজ। ফলমূলে কেমিক্যালের ব্যবহার রোধে তাদের নিয়োগ করা সম্ভব নয়। এজন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে। মোবাইল কোর্ট জরিমানা করছে অসাধু ব্যবসায়ীদের। কিন্তু কেমিক্যালের ব্যবহার রোধ করা যাচ্ছে না। এজন্য বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করতে হবে। যারা কেমিক্যাল আমদানি করে তাদেরকে ধরতে হবে।

এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, প্রয়োজনে সরকার বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করবে। কিন্তু ফল পাকাতে যে ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার হয় সেটা রোধ করতে হবে। আদালত বলে, উচ্চ আদালত থেকে ঋণখেলাপির তালিকা চাওয়া হয়েছিল। সেটা তালিকা সরকার প্রস্তুত করে জাতীয় সংসদে প্রকাশ করেছে। এটা অবশ্যই সাধুবাদ পাবার যোগ্য।

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এমআর হাসান বলেন, বাজারে যেসব ফল রয়েছে সেসব ফলে ফরমালিন ব্যবহার করা হলেও তা কাজে দেয় না। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি প্রতিবেদন রয়েছে। আর আমরা সারাবছরই সার্ভিল্যান্স টিমের মাধ্যমে ফলমূল পরীক্ষা করে থাকি। এ সময় রিটকারীর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ফরিদুল আলম শুনানি করেন।