বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা
সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্তি হতে চলেছে বদলগাছীর হলুদবিহার প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন। বদলগাছীর নিভৃত পল্লির এক প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটি দ্বীপ। প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন এই দ্বীপে নজর পড়লেই দর্শকরা আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। এটি ছিল গাছ-গাছড়া ঝোপ-জঙ্গলে পরিপূর্ণ উঁচু একটি দ্বীপ। দ্বীপের মাথায় ছিল একটি বড়ই গাছ। তার নিচে ছিল গভীর কূপ।
হলুদবিহার গ্রামে অনেকগুলো বিক্ষিপ্ত ঢিবি ছিল তাতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল পুরোনো ইট ভাঙা মৃিশল্পের বিভিন্ন নিদর্শন। এ থেকেই এখানে বৌদ্ধ বসতির প্রমাণ মিলে। ১৯৭৬ খ্রীষ্টাব্দে এই দ্বীপ সংরক্ষিত করা হয়। ১৯৮৪ খ্রীষ্টাব্দে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রথম খনন কাজ করেন। ১৯৯৩ খ্রীষ্টাব্দে দ্বিতীয়বার খনন কালে বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন সামগ্রী মানুষের মূর্তি সম্বলিত ভাঙা পোড়া মাটির ফলক পাথর সামগ্রী ও ভাঙা মূর্তির মূল অলংকারের ঢালাই ছাঁচ এবং চূর্ণযন্ত্র উদ্ধার করা হয়। প্রশাসনিক উদাসিনতা ও সংরক্ষণের অভাবে এই প্রাচীন নিদর্শন বিলুপ্তি হতে চলেছে। ধারণা করা হয়, ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার নির্মাণেরও শত শত বছর পূর্বে হলুদবিহার নির্মিত। হলধর রাজা ও বিহারের কারণে কালক্রমে এই গ্রামের নামকরণ হয়েছে হলুদবিহার। এই দ্বীপের নামানুসারে স্থানীয় বাজারের নামকরণ হয় দ্বীপগঞ্জ হাট। এলাকাবাসী এটিকে সংস্কারসহ সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বৌদ্ধবিহার কাস্টডিয়ান মো. তানভির আলম বলেন, হলুদবিহার সংস্কার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
