অন্তহীন ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২২:০০

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনা-বেনাপোল কমিউটার ট্রেন যাত্রীরা অন্তহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ট্রেনটিতে নেই আসন নম্বর, শোভন চেয়ার ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো কামরা। তাই যাত্রী সেবার মান বাড়াতে এটিকে আন্তঃনগর (ইন্টার সিটি) করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা। আন্তঃনগর করা হলে যাত্রী সুবিধার পাশাপাশি ট্রেনটি থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বেশি হবে।

খুলনা থেকে বেনাপোল চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, খুলনা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত একটি ট্রেন চলে। ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৬টায় ও বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে ছেড়ে যায় বেনাপোলের উদ্দেশে। আবার সকাল ৯টা ও বিকাল ৫টায় ছেড়ে আসে খুলনার উদ্দেশে। কিন্তু ট্রেনটিতে নেই কোনো আসন নম্বর, শোভন চেয়ার ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো কামরা। এ কারণে অনেক যাত্রী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আগের থেকে টিকিটের বন্দোবস্ত করতে পারেন না। তাই নিজের মতো করে আসনে বসে যেতে পারেন না। অনেক সময় যাত্রীদের মধ্যে সিট নিয়ে বসচার সৃষ্টিও হয়।

খুলনা থেকে নিয়মিত বেনাপোল যাতায়াত করেন, নগরীর নিরালা এলাকার শাওন শেখ। তিনি বলেন, আমাকে প্রায়ই ভারতে যেতে হয় চিকিত্সার জন্য। কিন্তু টিকিট কাটতে দেরি হলে আর আসন পাই না। বেশ কষ্ট করে যেতে হয়।

আরেক যাত্রী শহীদুল ইসলাম বলেন, কমিউটার ট্রেনে মাত্র ৪৫ টাকায় টিকিট কেটে আমরা বেনাপোলে যেতে পারি। কিন্তু ট্রেনটিতে নেই কোনো ভালো আসন। অযত্ন-অবহেলায় সিটগুলোর অবস্থা করুণ। তাছাড়া বেনাপোল থেকে ফেরার সময় নানা রকম ভারতীয় পণ্যে ভরে যায় ট্রেনটি; তখন বাধ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আসতে হয়। এটি বেশ বিড়ম্বনার। ট্রেনটিতে নির্দিষ্ট আসন ও কামরা থাকলে যাত্রী সংখ্যা আরো বেশি হতো।

নগরীর টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা শ্যামল রায় বলেন, আমার মা বেশ অসুস্থ। তাকে কলকাতায় ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতে হয়। তার জন্য আগাম টিকিট কেটে রাখব তার কোনো উপায় নেই। একটু দেরি হলে টিকিট কাটতে পারলেও সিট পাওয়া যায় না। তখন বাধ্য হয়ে বাসে যেতে হয়। যদি ট্রেনটি সুন্দরবন কিংবা রূপসার মতো আন্তঃনগর হতো, আমি আগে টিকিট কেটে রাখতে পারতাম। তাহলে বেশ ভালো হতো।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, খুলনা-বেনাপোল কমিউটার ট্রেনটির যাত্রী সেবার মান তেমন ভালো নয়। এখন সময় এসেছে এটিকে আন্তঃনগর করার। এতে যেমন যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি পাবে, সেইসঙ্গে যাত্রীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। আমরা খুলনার জনগণ চাই এটি আন্তঃনগর হোক।

খুলনা রেলওয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রেনটি আন্তঃনগর হলে যাত্রী সেবার মান বাড়বে। তখন ভাড়া একটু বাড়লেও যাত্রীরা বেশ আরামে খুলনা-বেনাপোল যাতায়াত করতে পারবে। যারা পরিবেশসহ নানা সমস্যার কারণে এই ট্রেনে যাতায়াত করেন না, তারাও তখন যাতায়াত করবেন। যাত্রীর সংখ্যাও বাড়বে। তখন এই ট্রেনে ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা মালামালে আর সয়লাব হবে না। আমরাও চাই এটি আন্তঃনগর হোক।

খুলনা রেলওয়ের কনিষ্ঠ ট্রাফিক কর্মকর্তা অংশুমান রায় চৌধুরী বলেন, এই ট্রেনটিকে আন্তঃনগর করার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।