দেশের প্রথম মহাকাশচারী হতে চান জোনাক

আপডেট : ৩১ মে ২০২৩, ০১:২১

পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর গ্রামের শিক্ষক বাবা ও গৃহিণী মায়ের একমাত্র ছেলে সন্তান জোনাক, যার অর্থ চাঁদের আলো। পূর্ণ নাম শাহ জালাল জোনাক। জোনাক যে দেশের জন্য আলো বয়ে আনছে, তা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। জোনাকের লেখা বই, প্রথম বাংলা বই হিসেবে মহাকাশে গিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের লাইব্রেরিতে স্থান পেয়েছে। যা বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মানুষের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

জোনাকের বেড়ে ওঠা প্রত্যন্ত গ্রামে এবং পড়াশোনা গ্রামের ভজনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রাথমিক পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পাড়ি জমান রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে। সেখান থেকেই এসএসসি এবং এইচএসসি সম্পন্ন করে বর্তমানে রাশিয়ায় রকেট সায়েন্স বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করছেন। জোনাকের ভাষ্যমতে, রাতের নক্ষত্রখচিত আকাশ তাকে ছোটবেলা থেকেই মহাকাশের প্রতি আগ্রহী করে তুলে। সেই আগ্রহ থেকেই মহাকাশচারী হওয়ার লক্ষ্যে জোনাক পড়াশোনা করছেন এবং নিজেকে প্রস্তুত করছেন যোগ্য মহাকাশচারী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য।

পড়াশোনার পাশাপাশি জোনাক লেখালেখি করেন। এক সময় পত্রিকাতে নিয়মিত লিখলেও এখন শুধুমাত্র বই লিখেন। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৭টি। তার লেখা ‘মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’ বাংলা ভাষার প্রথম বই হিসেবে ২০২২ সালের ১৮ মার্চ মহাকাশে পাঠানো হলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের লাইবেরিতে তা সংরক্ষণ করা হয়।

রাশিয়ার মহাকাশচারী এবং তত্কালীন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডার ওলেগ আর্তেমইয়েভ মহাকাশে গমনের সময় বইটি সাথে নিয়ে যায়। এজন্য রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘রসকসমস’ গুরুত্ব বিবেচনায় বইটি মহাকাশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি প্রদান করেন।

এছাড়া শাহ জালাল জোনাক বাংলাদেশের প্রথম মহাকাশচারী হওয়ার লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করছেন। মহাকাশচারী হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং নিচ্ছেন রাশিয়ায়। তার মতে, বাংলাদেশ সরকার যখন কোনো বাংলাদেশি মহাকাশচারী মহাকাশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন, তখন যেন বাংলাদেশ থেকে তাকে পাঠাতে পারে, সেজন্যই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করছেন।

এছাড়া জোনাক রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘রসকসমস’-এর নিমন্ত্রণে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কাজাখস্তানে অবস্থিত রাশিয়ার মহাকাশে রকেট উেক্ষপণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থান পরিদর্শন করার এবং সেখান থেকে সরাসরি মহাকাশে রকেট উেক্ষপণ পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান। সেখান থেকে তিনি রাশিয়ার মহাকাশে রকেট উেক্ষপণের সকল প্রযুক্তি এবং বিষয়বস্ত নিয়ে  সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার করোলেভ শহরে অবস্থিত রাশিয়ার ‘মিশন কন্ট্রোল সেন্টার’, যেখান থেকে মহাকাশে যাওয়া সকল রকেট এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের অনেককিছু নিয়ন্ত্রণ করা হয়, মহাকাশে অবস্থিত মহাকাশচারীদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়, সেই ‘মিশন কন্ট্রোল সেন্টার-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও  সবকিছু তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে হাতে-কলমে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পেয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসটিএম