ধর্ষককে গ্রেফতার করায় ধর্ষিতার পরিবার অবরুদ্ধ!

আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯, ২২:২৯

প্রতিবন্ধী স্বামী, দুই প্রতিবন্ধী মেয়ে ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জামাতাকে নিয়ে নিজ ঘরে আটকা পড়েছেন দরিদ্র গৃহবধূ রোকেয়া বেগম। তার মেয়েকে ধর্ষণের মামলায় ধর্ষক গ্রেফতার হওয়ার পর আসামি পক্ষের লোকজন বাড়ির সীমানা প্রাচীর দিয়ে রোকেয়াদের পথ আটকে দিয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে তারা বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান।

সদর উপজেলার হাওয়ালখালি গ্রামের মানসিক  ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আবদুল মালেকের স্ত্রী রোকেয়া বেগম তার ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী টুম্পাকে নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, গত ৩০ জানুয়ারি তার প্রতিবন্ধী মেয়ে গুলশান আরাকে (২৮) ধর্ষণ করে তার প্রতিবেশী আকরম সরদার (৬০)। এক পর্যায়ে গুলশান আরা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য আকরম কলারোয়ায় তাকে তার মেয়ে ফেরদৌসির বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে খুলনায় ভর্তি করা হয়। এরই মধ্যে রোকেয়া আকরমের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি মামলা করেন। আসামি করা হয় আকরম, তার স্ত্রী মাসকুরা, মেয়ে ফেরদৌসী ও জামাতা রেজাউলকে। পরে তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। গত সপ্তাহে আকরম সাতক্ষীরার একটি আদালতে হাজিরা দিতে এলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠায়।

রোকেয়া বেগম জানান, আকরম জেলে যাওয়ার পর তার পরিবার নিজ বাড়ির চারপাশে প্রাচীর দিয়ে দিয়েছে। যে পথ দিয়ে রোকেয়ার পরিবার এতদিন যাতায়াত করত সে পথও বেড়া দিয়ে আটকে দিয়েছে তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশদহা  ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, অনেক চেষ্টা করেছি পথ উন্মুক্ত করে দেওয়ার, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে আবার চেষ্টা করব।