মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের কোন সীমা নেই-হাইকোর্টের এমন রায় স্থগিত করেনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের উপর গতকাল রবিবার ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ।
গত ১৯ মে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের ডিভিশন বেঞ্চ এক রায়ে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির ক্ষেত্রে সরকারের জারি করা বয়স সংক্রান্ত দুটি আদেশ (গেজেট) অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে ধর্ম-বর্ণ-বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সব বয়সের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছেন। সেখানে বয়স দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করা বেআইনি ও সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং পঞ্চম তফসিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ তুলে ধরে আদালত বলেন, ৭-৮ বছর বয়সীরাও সে সময় যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। বাংলাদেশে রচিত বই ও নির্মিত সিনেমা আছে শিশু ও কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে। তাই বয়সের ফ্রেমে বেঁধে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া যাবে না।
এই রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে সরকার। আবেদনের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং বিবাদী পক্ষে ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন শুনানি করেন। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।
প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি সর্বশেষ জারি করা সরকারি এক আদেশে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর যাদের বয়স সাড়ে ১২ বছর তারা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি (প্রয়োজনীয় প্রমাণ ও দলিলপত্র সাপেক্ষে) পাবেন। এর আগে ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর অপর এক আদেশে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যাদের বয়স ১৩ বছর ছিলো তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবে। সরকারের এই দুটি আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট আবেদন দায়ের করা হয়।
