বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কক্সবাজার পৌর নির্বাচন: বিজয়ী হতে তৎপর নৌকা ও বিদ্রোহী প্রার্থী

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ১৩:০৩

কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচন ১২ জুন। শনিবার (১০ জুন) মধ্যরাতে শেষ হয়েছে প্রচার ও প্রচারণা। রোববার রাত পোহালেই শুরু হবে ভোট গ্রহণ।

প্রচারণা শেষ হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সাধারণ ভোটাররা হিসাব মেলাচ্ছেন কে হবেন আগামীর পৌর মেয়র। ১২টি ওয়ার্ডের ৯৪ হাজার ৮০২ জন ভোটারদের মন কাড়তে মেয়র পদে এবারের নির্বাচনে পাঁচ প্রার্থী মাঠের লড়াইয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী ও নাগরিক কমিটি মনোনীত প্রার্থী (আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত) মাশেদুল হক রাশেদের মাঝে মূল প্রতিদ্বন্ধিতা হচ্ছে।

নির্বাচনে ১২টি কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন।

দলের সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরু থেকে মেয়র পদে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে ছিল আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহী প্রার্থীর পারিবারিক, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে প্রকাশ্যে তার পক্ষে অবস্থান নেন অনেক নেতাকর্মী। ফলে দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। এতে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করে মাঠে নামে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং নৌকার প্রার্থীর সমর্থিত নানা পেশাজীবীরা। তবে ৫ জুন মাহাবুবুল আলম হানিফের কক্সবাজার সফর দিয়ে দৃশ্যপট প্লাটাতে শুরু করে। পিছিয়ে থেকে অগোছালো প্রচারণা দিয়ে শুরু করলেও শেষ মুর্হূতে দলীয় লোকজন ও এর অঙ্গ সংগঠন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাবুর পক্ষে মাঠে নামে। ফলে উল্টে গেছে ভোটের হিসাব নিকেষ।

এদিকে, নির্বাচনের শুরুর দিকে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন নাগরিক কমিটির ব্যানারে নারিকেল গাছ প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ। তবে দল থেকে সব ভাই-বোন বহিষ্কার ও পদত্যাগ এবং জেলার প্রবীণ নেতাদের নিয়ে কটুক্তি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদাগারসহ নানা দাম্ভিকতাপূর্ণ বক্তব্যের কারণে শেষ মুহূর্তে এসে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন প্রার্থী রাশেদ।

কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ওই পরিবারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আর কোনো সম্পর্ক নেই। তারা পাঁচ ভাই ও বোন কয়েকদিন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়। তাদের হয়ে কাজ করছে এমন আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী একযোগে মাঠে কাজ করছেন। যেখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রচারণা দল রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, তাঁতী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগসহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের পৃথক দল। প্রার্থীর বাইরে টানা প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের বিশ্বাস এবং আস্থা অর্জন সম্ভব হয়েছে। একারণে বিপুল ভোটে নৌকা বিজয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

কক্সবাজার দোকান মালিক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাশেম বলেন, মাবুর পক্ষে ব্যবসায়ীরা ১২ ওয়ার্ডে ১২টি প্রচারণা দল নামিয়েছে।

এছাড়া নারিকেল গাছ মার্কার সমর্থক ও প্রার্থীরা সাতকানিয়া ও লোহাগড়াবাসীকে হেয় করে নানা কথাবার্তা বলায় তারাও স্বতস্ফূর্তভাবে নৌকার জন্য মাঠে নামেন। 

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে স্থানীয়-বহিরাগত একটি ইসু মাঠে এনেছেন। পৌরসভার ৯০ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এসেছেন। এখানে স্থায়ী বলতে কিছু সংখ্যক রাখাইন ছিল। এতে ভোটারদের মধ্যে প্রভাব পড়েছে। নারিকেল গাছের প্রার্থীর পক্ষ থেকে জেলার প্রথিতযশা কয়েকজন ব্যক্তি যারা ইতোমধ্যে মারা গেছেন তাদের নিয়ে বিরূপ আচরণ করা হয়েছে। এটার প্রভাবও মাঠে পড়েছে।

এদিকে, পৌর নির্বাচনের অংশ নেওয়ার কারণে রাশেদ হারিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ, তার ছোট ভাই সোহেলকে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, অপর ভাই কায়সারুল হক জুয়েলকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি পদ থেকে বহিষ্কার এবং তার একমাত্র বোন তাহমিনা চৌধুরী লুনা জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এতো কিছুর পরেও থামেননি বিদ্রোহী প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বহিষ্কৃত ৩নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জানে আলম পুতু জানান, কক্সবাজার পৌরসভায় রাশেদকে মানুষ কখনও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনে করেন না। দলের নেতারা তাকেই মেয়র করতে মাঠে রয়েছেন। একই সঙ্গে প্রার্থী বাবা ও ভাইরা জনপ্রিয় মানুষ। তাই তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থী মাসেদুল হক রাশেদ জানান, সার্বিক পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ছাড়াও অন্যান্য দলের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ সমর্থন রয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে তিনিই বিজয় হবেন। পরিবেশ রক্ষার জন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, জনগণ বুঝে কার কাছে তারা নিরাপদ। আমাকে নিরাপদ মনে করেই জনগণ এবারও আমার পাশে রয়েছে। সাধারণ ভোটাররা নিরাপদ থাকতে, উন্নয়নের ধারাবাহিতা রক্ষায় নৌকার পক্ষে রায় প্রদানে সম্মত রয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন জানান, একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনের সকল প্রস্তুতি শেষ। এবারের ১২টি ওয়ার্ডের ৪৩টি কেন্দ্রের ভোট ইভিএম এ অনুষ্ঠিত হবে।

ইত্তেফাক/আরএজে