চলছে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা

দেশীয় জলসীমায় ভারতীয় ট্রলারের মাছ শিকারের অভিযোগ

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ১৫:৩৯

দেশের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও মাছের বংশ বিস্তারে বঙ্গোপসাগরে চলছে মাছ ধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ২০ মে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত। তবে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে ভারতীয় ট্রলার সব ধরনের মাছ শিকার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

নাম প্রকাশ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গভীর সাগরে মাছ শিকার করে ঘাটে আসা জেলেরা বলেন, গভীর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় দেশীয় ট্রলারের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভারতীয় ট্রলার মাছ শিকার করছে।

তারা বলেন, আমরা আমাদের সীমানায় জাল ফেলে মাছের জন্য অপেক্ষা করলে ভারতীয়রা আমাদের তাড়িয়ে দেয়।

তারা বলেন, তোদের দেশে অবরোধ তোরা মাছ শিকার করতে কেন আসছ?

জেলেরা জানান, আমাদের জলসীমায় আমাদের মাছ ধরতে দেয় না ভারতীয়রা। ভারতীয় জেলেরা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেয়। তবে এ অবরোধ দিয়ে লাভ কি ? যদি ভারতের সঙ্গে মিল রেখে অবরোধ দেওয়া হয় তাহলে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে কূলে ফিরে আসা জেলেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে এবং মৎস্য ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে

নির্বিঘ্নে মাছ শিকার করে নিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্তৃপক্ষ দেখেও দেখছে না।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, কিছু অসাধু জেলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে মাছ শিকার করে এটা অন্যায়। তবে ভারতীয় জেলেরা সব সময়ই আমাদের দেশীয় জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। আর অবরোধ চলাকালে তারা উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে।

অভিযোগের বিষয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কে এম শফিউল কিঞ্জল জানান, পার্শ্ববর্তী দেশের মাছ ধরার ট্রলার যাতে করে আমাদের দেশীয় জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করতে না পারে সেজন্য গভীর বঙ্গোপসাগরে পূর্ব ও পশ্চিম জোন কোস্টগার্ডের চারটি জাহাজ ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। এছাড়াও নিয়মিত পেট্রল টহল চলছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, প্রসাশনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সমুদ্রে মাছ শিকার করে ঘাটে বিক্রি করতে এসে মৎস্য বিভাগের অভিযানে আটকা পড়ে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। একই সঙ্গে নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য বিভাগের অভিযানে প্রায় দেড় মেট্রিক টন মাছ জব্দ করা হয়েছে।

তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে ২০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৫৫ হাজার টাকার মাছ নিলাম করা হয়। ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও ৩.৫ মেট্রিক টন বরফ ধংস করা হয়েছে। এছাড়াও আটক ২৪০ কেজি মাছ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরএজে