পঞ্চায়েতের মনোনয়ন নিয়ে রণক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গ

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৩, ০১:৫৯

পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়নপত্র পেশ শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গ-জুড়ে সহিংসতা। সোমবার সারাদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় হামলা হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের ঘটনা সবকিছু ছাপিয়ে গেছে।

এদিন ভাঙড়ে বিডিও অফিসে মনোনয়নপত্র পেশ করতে গেছিলেন বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকির আইএসএফের প্রার্থীরা। তারা বিডিও অফিসের কাছে পৌঁছাবার পরই শুরু হয় বোমা হামলা। বৃষ্টির মতো বোমা পড়তে থাকে। সঙ্গে গুলি। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায়। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

পুলিশ পরে বিডিও অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার কোনো সুযোগ ও পরিবেশ ছিল না।

নওসাদ সিদ্দিকি আনন্দবাজারকে বলেছেন, তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকরা আমাদের প্রার্থীদের মনোনয়ন পেশ করতে দেবে না। তাই তারা গুলি, বোমা, পাথর মারছে।

নওসাদের অভিযোগ, এরপর পুলিশ আমার দলের প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করছে। আমাদের কয়েকজন বিডিও অফিসে পৌঁছেছে। বাকিরা যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আমিও যাচ্ছি। পুলিশ এই বোমাবাজি ও গুলি দাঁড়িয়ে দেখছে।

তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক শওকত মোল্লা বলেছেন, নওসাদ মিথ্যা কথা বলছেন। তিনি দাঁড়িয়ে থেকে আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। বিভিন্ন জায়গায় বোমা ছুঁড়েছেন। আমাদের কর্মীর গুলি লেগেছে। ওরা বাইরে থেকে লোক এনেছে। তৃণমূলের আরেক নেতা রাজ্জাকের দাবি, আইএসএফকে উৎখাত করবেন তারা।

পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর এস আর মির্জা জানিয়েছেন, আইএসএফ কর্মীরা সমানে বোমা, গুলি, বোতল ছুঁড়েছে। সেই বোতলে লেগে হাত কেটেছে মির্জার।

টিভি চ্যানেলের ফুটেজে দেখা গেছে, ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জ এলাকায় সমানে বোমা ও গুলি চলেছে। পুলিশ একবার কিছুটা এগিয়েছে, আবার কিছুটা পিছিয়েছে।

ভাঙড়ে মনোননপত্র জমা দিতে না পেরে এক আইএসএফ প্রার্থীকে কাঁদতেও দেখা যায়। একজন আইএসএফ প্রার্থীর পায়ে গুলি লাগে।

ইত্তেফাক/এএইচপি