সিলেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে ফের উত্তেজনা, সংঘর্ষে আসামি ৬০০

আপডেট : ১৫ জুন ২০২৩, ১৮:৫৬

সিলেট-বাদাঘাট বাইপাস সড়কের পাশের এলাকায় বৃষ্টির জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তা কাটাকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার মইয়ারচর ও পার্শ্ববর্তী সোনাতলা এলাকায় এখনো তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

এর আগে গত বুধবার (১৪ জুন) ঐ এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তা কাটাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক আহত হন। এ ঘটনায় ৬ শত জনকে আসামি করে মামালা দায়ের করেছে পুলিশ। 

ছবি: ইত্তেফাক

জালালাবাদ থানার ওসি জানান, বুধবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কাউকেই আটক করা হয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) বিকালে একপক্ষ চাতল পয়েন্টে অপরপক্ষ সোনাতলা মাদ্রাসার কাছে  সমাবেশের ডাক দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লোকজন সমাবেত হচ্ছিল। জালালাবাদ থানার ওসি সাইফুল আলম রুকন বলেন, পুলিশ সতর্ক রয়েছে। ঘটনা পর্যবেক্ষণে আছি।

কুমারগাঁও বাদাঘাট সড়কটি ৪ লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলছে। সড়ক খুঁড়ে মাটি রাস্তার পাশে রাখায় সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি অনেকের বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে। 
 
বুধবার সকাল ১১টার দিকে আটকে থাকা পানি নিষ্কাশনের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্ধিত ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের মইয়ারচর, নয়া খুররমখলা, নাজিরেরগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা কুমারগাঁও-বাদাঘাট সড়ক অবরোধ করেন। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভও করেন।

ছবি: ইত্তেফাক

খবর পেয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।

দুপুর ২টার দিকে পানি নিষ্কাশনের জন্য সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের পার্শ্ববর্তী সোনাতলা এলাকার একটি রাস্তা কাটতে গেলে স্থানীয়রা বাধা দেন। এই বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোনাতলা এলাকাবাসীর সঙ্গে মইয়ারচর, নোয়াখুররমখলা, নাজিরেরগাঁও গ্রামের লোকদের সংঘর্ষ হয়।

ছবি: ইত্তেফাক

সংঘর্ষে উভয়পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুলিশসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হন।

দু’পক্ষের তুমুল সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। দুপুর থেকে কুমারগাঁও-বাদাঘাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য এলাকায় অবস্থান নেয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।  

সংঘর্ষ চলাকালে মইয়ারচর গ্রামের মুরব্বি, রাজনৈতিক নেতারা কয়েকজন একটি দোকানে আটকা পড়েন। এ সময় উত্তেজিত লোকজন তাদের দোকান ঘিরে রাখে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বের হতে দেওয়া হয়নি। পরে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আটকে পড়াদের উদ্ধার করেন।এ সময় আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন, টুকেরাবাজর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শহীদ আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট নূরে আলম সিরাজী, কান্দিগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মনাফ, বিশিষ্ট মুরব্বি জিহাদ আহমদ, ব্যবসায়ী কয়সর আহমদ, ফজলুর করিম ফুল মিয়াসহ এলাকার মুরব্বীরা তাদের উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালান।

ইত্তেফাক/পিও