প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাজশাহী অঞ্চলে কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাচ্ছে দেশি জাতের গরু। এবারও দেশি গরুতেই কোরবানির চাহিদা মিটবে বলে দাবি করেছে প্রসাশন।
কোরবানির মৌসুমকে সামনে রেখে খামারিরা প্রতি বছরই পরিকল্পিতভাবে দেশি জাতের গরু লালন ও পালন করে আসছেন। ফলে ঈদুল আজহায় দেশি জাতের গরু উদ্বৃত্তই থাকছে রাজশাহী অঞ্চলে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তবে এই মুহূর্তে এ অঞ্চলের হাটগুলোতে ক্রেতার আনাগোনা কম দেখা যাচ্ছে। রাজশাহী অঞ্চলে এবারও চাহিদার তুলনায় ৭০ হাজারেরও বেশি কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। ঈদুল আজহার আর মাত্র ১১ দিন সামনে থাকলেও রাজশাহীর পশুর হাটে ক্রেতা কম। তাই এখনো কোরবানির পশুর হাট জমেনি।
তবে অনেকেই বলছেন, আসন্ন রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ডামাডোলের কারণে হাটে কোরবানির পশু কেনার তোড়জোড় নেই। তাই পশু কেনাকাটায় ভাটা পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২১ জুন রাজশাহী সিটি নির্বাচনের পরই রাজশাহীর প্রার্থী ও ভোটাররা একযোগে কোরবানির পশুর হাটমুখী হবেন।
এদিকে করোনা সংকটের পর থেকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজশাহীতেও গরুর মাংসের দাম বাড়ছে। প্রান্তিক খামারিদের দাবি নানা সংকটে কয়েক বছর থেকে গবাদি পশুর খাবারের দাম বাড়ছেই। এ কারণে গবাদি পশুর লালন ও পালনের খরচও বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। তাই দেশি গরুর দাম বাড়ছে। এজন্য কোরবানির পশুরও দাম বাড়ছে। তবে উদ্বৃত্ত থাকায় এবারও কোরবানির পশু আমদানির দরকার নেই।
রাজশাহীর পবা উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের খামারি গোলাম মোস্তফা জানান, করোনা মহামারির সময় থেকে অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গো-খাদ্যের দামও বাড়ছে। খড়-ভুসিসহ অন্যান্য গো-খাদ্যের দাম গত তিন বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে অন্যান্য খরচও। এছাড়া গবাদিপশুর অসুখ বিসুখ এবং চিকিত্সার খরচও বেড়েছে।
একই উপজেলার পাশের দীঘির পারিলা গ্রামের জয়নাল হোসেন জানান, তিনি কোরবানির হাট ধরার জন্য বাড়িতে ষাঁড় লালন ও পালন করেছেন। তার মতো গ্রামের প্রতিটি গৃহস্থ বাড়িতে অন্তত একটি করে হলোও কোরবানির জন্য গরু লালনপালন করেছেন।
পবা উপজেলার মথুরা গ্রামের কৃষক নূরুল আমিন জানান, হাটে বিক্রির জন্য এবারও দুটি ষাঁড় লালনপালন করেছেন। কোরবানির হাটে সেই ষাঁড় গরুগুলো এক থেকে দেড় লাখ টাকা দাম উঠবে বলে তিনি আশা করছেন। দুই বছর আগে একটি ৪০ হাজার ও অন্যটি ৫০ হাজার টাকায় কিনেছেন।
রাজশাহী অঞ্চলের সর্ববৃহৎ গবাদি পশুর হাট ‘সিটিহাট’ এর ইজারাদার ফারুক হোসেন ডাবলু জানান, কোরবানির মৌসুমকে সামনে রেখে এবারও হাটে দেশি জাতের গরুর আমদানি বেশি। তাই আগের মতো ভারত থেকে গবাদি পশু আমদানির প্রয়োজন নেই। হাটে কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু উঠছে। তবে এখনো ক্রেতার দেখা নেই।
তিনি জানান, রাজশাহীর মানুষ এখন নির্বাচনমুখী। সবাই ভোট নিয়েই ব্যস্ত। ঈদের এখনো প্রায় ১১ দিন বাকি। সিটি করপোরেশনে ভোটের বাকি চার দিন। ধারণা করা হচ্ছে, ভোটের পরপরই সিটিহাট পুরোদমে জমে উঠবে।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন জানান, রাজশাহীতে এবার চাহিদার চেয়েও বেশি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আহমেদ জানান, প্রতিবারের মতো এবারও দেশি জাতের পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। তাই বাইরে থেকে গবাদিপশু আমদানির প্রয়োজন নেই।
এছাড়া কোরবানি উপযোগী গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকায় ঈদে প্রান্তিক খামারি ও ক্রেতা উভয়ের জন্যই পশু কেনাবেচার সুবিধাজনক পরিবেশ থাকবে। তাই বাজার স্বাভাবিক রাখতে কোনোভাবেই যেন সীমান্ত গলিয়ে ভারতীয় গরু আসতে না পারে সেজন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বলে জানান ডিসি।
