রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরাঞ্চলের চাষি আবু বকর। তিনি ৪ বিঘা জমিতে পটল চাষ করেছেন। পটলের উৎপাদন ও দাম ভালো পাওয়ায় তার মুখে প্রাণচঞ্চল হাসি। অনেকটা উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে তিনি বললেন, এবার পটল বিক্রি করে তিনি ভালো টাকা আয় করবেন। শুধু আবু বকর নয়, বাঘার চরাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকসহ সমতল এলাকার আড়ানী এবং বাউসা ইউনিয়নে এবার পটল চাষ বিপ্লব ঘটেছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অসংখ্য পটল ক্ষেত। কোনো জায়গায় বাঁসের চালা তুলে পটল চাষ হচ্ছে। আবার কোনো জায়গায় ফাঁকা জমির ওপর খড় বিছিয়ে তার ওপর পটল চাষ করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু চাষি পটল তুলায় ব্যস্ত আবার কেউ-কেউ পরিচর্যায়। এক কথায় কৃষকরা যেন পটলের সাথে মিশে গেছে আবার পটলগুলো যেন ছোট বাচ্চার মত আদর নিতে বাতাসে দোল খাচ্ছে। এবার ভালো দাম পাওয়ায় পটল তাদের ভাগ্য বদলাতে সহায়ক হচ্ছে। আর তাই পরম মমতায় তারা পটল চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষক ফজলু দেওয়ান বললেন, এই যে দেখছেন পটল উঠাচ্ছি। পটলগুলো জোরে ফেলে দিলে পটলের গায়ে দাগ বসবে। বিক্রিতে কম টাকা আসবে। এ কারণে খুবই সতর্কতার সাথে পটল উঠাচ্ছি। দুই বিঘা জমি থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০ মণ পটল পটল তোলা হয়। প্রতিমণ ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করা হবে।
আড়ানী গ্রামের কৃষক সুজন আলী বললেন, বর্তমানে পটল আমাদের ভরসা। তাই ক্ষেতের পরিচর্যা করছি। এখানে পাইকারি বাজার ৯০০ টাকা মণ পটল বিক্রি করা হয়। এ বছর কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে পটল বিক্রি করে প্রায় দুই লাখ টাকা আয় হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বাবলু দেওয়ান বলেন, আমাদের চরাঞ্চলকে সবজি ভাণ্ডার বলা হয়। এখানে সকল প্রকার সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। তবে এ বছর অন্যান্য সবজির চেয়ে পটলের উৎপাদন ভালো হওয়ায় কৃষকরা আনন্দের সঙ্গে পটল উঠাচ্ছে। এখানকার পটল স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নাটোর, খুলনা, ঈশ্বরদী , সিরাজগঞ্জ, সিলেট এমনকি রাজধানী ঢাকাতে বিক্রি করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, পটল গ্রীষ্মকালীন সবজি। বাংলাদেশের সব জায়গাতে পটলের চাষ হয় না। বৃহত্তর রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলায় ব্যাপকভাবে পটলের চাষ করা হয়। এদিক থেকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলা অন্যতম। এ উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলের জমিগুলো সকল প্রকার সবজি চাষে বেশ উপযুক্ত। তবে স্থানীয় কৃষকরা অন্যান্য সবজির চেয়ে গত বছর পটলের উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবার অধিকাংশ কৃষক পটল চাষ করেছেন। এ বছর উপজেলার ৩ টি ইউনিয়নে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে পটল চাষ হয়েছে।
