জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আজ রবিবার শুরু হচ্ছে। আগামী ২২ জুন পরীক্ষা শেষ হবে। তবে ‘সি-১’ ইউনিটভুক্ত নাটক ও নাট্যতত্ত্ব এবং চারুকলা বিভাগের ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। বিগত বছরের মতো এবারের ভর্তি পরীক্ষায় শিফট পদ্ধতি বহাল রয়েছে। তবে ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা শিফটে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে শিফট ‘বৈষম্য’ কিছুটা কমবে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে লড়বে ১৩৬ জন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘বিতর্কিত’ শিফট পদ্ধতি বাতিলের দাবি দীর্ঘদিনের। ভর্তিচ্ছুদের দাবি, ভর্তি পরীক্ষায় কোনো শিফটের প্রশ্ন কঠিন, আবার কোনো শিফটের প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ হয়। ফলে এক শিফট থেকে বেশি শিক্ষার্থী সুযোগ পান, আবার অন্য শিফট থেকে কম শিক্ষার্থী সুযোগ পান। তার পরিপ্রেক্ষিতে শিফট পদ্ধতি বাতিল করে এক শিফট ও এক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের স্কুলগুলো পরীক্ষারকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে হতো। তবে ভর্তিচ্ছুদের ভোগান্তি ও প্রশ্ন ফাঁসের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে মত দেননি শিক্ষকরা। ফলে শিফট পদ্ধতি বহাল রাখা হয়। অন্যদিকে ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষায় পোশাকধারী সশস্ত্র ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ ফোর্স এবং অতিরিক্ত আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক (ডেইরি গেইট) থেকে মীর মশাররফ হোসেন হল গেট পর্যন্ত পুলিশি টহল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সময় ক্যাম্পাসের সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আমরা বদ্ধপরিকর। তবুও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যায়। সেই ঘটনাগুলো যাতে না ঘটে, সেজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। এছাড়া জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের ধরতে সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করবে। পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা ও শিক্ষকরাও তৎপর থাকবেন। তারপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকসহ সকল অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।’
