প্রতিপক্ষের গুলিতে ফের ঈশ্বরদীর পাকশীতে নিহত হয়েছেন তাফসির আহম্মেদ মনা (২৩) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী। শনিবার (১৭ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার লক্ষীকুণ্ডার এমপি মোড়ে ছাত্রলীগের মনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত মনা ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের পাকার মোড় এলাকার সৌদি প্রবাসী তানজুর রহমান তুহিনের ছেলে।
গত কয়েক বছরে মনাসহ পাকশীতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ৭ নেতা-কর্মী খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও কোনো ঘটনার আজ অবধি কোনো সুরাহা হয়নি।
জানা যায়, ঘটনার সময় মনা এমপি মোড়ে ট্যাঙ্ক লরি ও কাভারভ্যানের শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বসেছিল। এ সময় ৪-৫ জনের অস্ত্রধারী মুখে কাপড় বেঁধে কার্যালয়ে প্রবেশ করে। মনাকে উদ্দেশ্য করে তারা চার রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে চলে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা মনাকে উদ্ধার করে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত মনার ভাই টুনটুনি ওরফে হাতকাটা টুনটুনি পাকশীর যুবলীগের নেতা। পুলিশ ঘটনাস্থল হতে গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি অরবিন্দ সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আইন-শৃংখলা বাহিনীর একাধিক দল হত্যার কারণ উদঘাটন এবং আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ শিহাব জানান, মনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিল। পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ না হওয়ায় তার কোনো পদ-পদবী ছিল না। তবে কমিটি প্রকাশ হলে অবশ্যই মনা একটি ভালো পদ পেতো। যারা ষড়যন্ত্র করে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানান তিনি।
জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য এ হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন কেউ কেউ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে বলেছেন, পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর ফটু মার্কেট সংলগ্ন পদ্মানদী থেকে মাটি ও বালু কাটার সঙ্গে ভাই টুনটুনি জড়িত। এ নিয়ে প্রতিপক্ষ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাদের লোকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। কয়েকদিন আগে প্রতিপক্ষ ওই গ্রুপ মনার পরে শাহিন নামের যুবলীগের এককর্মীর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় যুবলীগ কর্মী লিটন, লিখনসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর আগে পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সদরুল আলম পিন্টু আততায়ীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়। এই হত্যাকাণ্ডে নিহত মনার ভাই টুনটুনি আসামি। টুনটুনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
পাকশী যুবলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের এসআই সুজাউল এবং ছাত্রলীগ কর্মী মনাসহ এ পর্যন্ত পাকশীতে ৮টি হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যাকান্ডের ঘটনায় আসামি এখনো চিহ্ণিত হয়নি। এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো সুরাহা না হওয়ায় পাকশীতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হচ্ছে।
