২০১৯-২০ অর্থবছরেরর প্রস্তাবিত বাজেটে সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশ আগাম কর (এটি) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)। এই কর বহাল থাকলে সম্পূর্ণ কাঁচামাল আমদানিনির্ভর এ শিল্পের সার্বিক খরচ বেড়ে যাবে। প্রতি বস্তা সিমেন্টের উত্পাদন খরচ ৪২ টাকা বেড়ে যাবে। ফলে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। গতকাল এ সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করে বিসিএমএ।
রাজধানীর প্রগতি সরণির বিসিএমএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের কারণে এ শিল্পের সমস্যা ও সংগঠনের দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি ও ক্রাউন সিমেন্টের এমডি মো. আলমগীর কবির। এ সময় বিসিএমএ’র সিনিয়র সহসভাপতি ও মেট্রোসেম সিমেন্টের এমডি মো. শহিদুল্লাহ, বিসিএমএ’র নির্বাহী পরিচালক বেলাল হোসাইন মোল্লাসহ সংগঠনের কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিএমএ সভাপতি আলমগীর কবির বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আয়কর খাতের অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ধারা সংশোধন করে সিমেন্ট খাতের সব ধরনের কাঁচামালের আমদানি পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ এআইটি চূড়ান্ত করদায় হিসাবে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সিমেন্ট সরবরাহের ওপর তিন শতাংশ উেস কর আগে থেকেই চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচিত। ফলে আমদানি পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ এআইটি মিলে সিমেন্ট শিল্পে আট শতাংশ অগ্রিম কর চূড়ান্ত করদায় হিসাবে গণ্য হচ্ছে, যা এই শিল্পের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে। এতে আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতি হবে এবং শিল্পটি রুগ্ন হওয়ার উপক্রম হতে পারে। এর বাইরে ভ্যাট আইন ২০১২ কার্যকর হতে চলায় আরও পাঁচ শতাংশ ভ্যাট এই বছর থেকে দেওয়া শুরু করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সম্পূর্ণ আমদানিকৃত কাঁচামালনির্ভর সিমেন্ট শিল্পের ওপর যে হারে কর প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে উত্পাদন খরচ ১০ শতাংশ বেড়ে যাবে। প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম বেড়ে যাবে অন্তত ৪২ টাকা। ফলে আবাসন খাত, সরকারের বড় বড় প্রকল্প এবং অন্যান্য খাত স্থবির হয়ে পড়বে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪২টি সিমেন্ট কারখানা রয়েছে, যেগুলোর বার্ষিক উত্পাদন তিন কোটি টন। গত ১০ বছর ধরে গড়ে ১২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে এই শিল্প। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে বাংলাদেশের কয়েকটি কোম্পানি সিমেন্ট রপ্তানি করে থাকে।
সংগঠনটি বলছে, বর্তমানে প্রায় সকল সিমেন্ট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করায় দেশের বর্তমান চাহিদা সম্পূর্ণ পূরণের পাশাপাশি একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে অন্যদিকে রপ্তানির বাজার উন্মুক্তকরণের কারণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন খাত উন্মোচিত হয়েছে। বর্তমানে বেশ কিছু সিমেন্ট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান অত্যাধুনিক পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি স্থাপনের মাধ্যমে উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে যার ফলে এই খাতে বর্তমানে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। পাশাপাশি এই খাতের সামগ্রিক উত্পাদন ক্ষমতা হবে প্রায় ৫ দশকি ৫ কোটি মেট্রিক টন এবং বর্তমান চাহিদা প্রায় ৩ কোটি মেট্রিক টন যা বর্তমান সরকারের গৃহীত ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দেশিয় সক্ষমতাকে নিশ্চিত করবে।
