বহিরাগতদের এই বক্তব্য দলের জন্য আত্মঘাতী!

আপডেট : ২০ জুন ২০২৩, ০৩:১৬

বাংলাদেশের কোনো কোনো মহল মনে করেন, ক্ষমতাসীন দলের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হইবে না। এই জন্য তাহারা এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাইবেন না বলিয়া মনস্থির করিয়াছেন; কিন্তু তাহাদের অনেকে এই কথা বেমালুম ভুলিয়া যান যে, একদা তাহারাও ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। আমরা ধরিয়া লইলাম, তাহারা জানেন, ক্ষমতায় থাকিবার সময় তাহারা কী করিয়াছিলেন। ভোটারদের শিক্ষাদীক্ষা, সচেতনতা ও আর্থিক সক্ষমতার দৈন্য দশাকে পুঁজি করিয়া যে কোনো উন্নয়নশীল দেশের মতো এই দেশেও যে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা কম, সেই সম্পর্কে আমরাও অবগত রহিয়াছি। সুষ্ঠু নির্বাচন লইয়া বিভিন্ন মহলে নানা কথা চলিতেছে, সরকারদলীয় প্রধানসহ দলের নেতারা সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়া চলিয়াছেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারসমর্থক বলিয়া দাবিদার কেহ যখন মন্তব্য করেন, ‘শেখ হাসিনা নৌকা দিছে, আবার ইলেকশন কীসের? কীসের ইলেকশন? আর ইলেকশন যদি হয়, বুঝে নিবেন ইলেকশন কাহাকে বলে!’ তখন সচেতন মহলে প্রশ্ন না উঠিয়া পারে না। সরকারি দলের সহিত থাকিয়া এই কথা মুখে কীভাবে আনা যায় যে, নেত্রী যখন মনোনয়ন দিয়াছেন, তখন ভোটের দরকার নাই? এই কথা সরকারি দলের জন্য কি আত্মঘাতী নহে?

যাহারা এইভাবে আস্ফাালন করিতেছেন, তাহারা কতটা সরকারি দলের লোক সেই সম্পর্কে আমরা পূর্ব হইতেই সতর্কবাণী উচ্চারণ করিয়া আসিতেছি। তাহারা যে ক্ষমতাসীন দলে অনুপ্রবেশকারী তাহাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই। তাহারা সরকারের সীমাহীন ক্ষতিসাধন করিয়া চলিয়াছেন। প্রয়াত রাজনৈতিক ভাষ্যকার, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী জীবনসায়াহ্নে আসিয়া তাহাদের সম্পর্কে এই সরকারকে সতর্ক করিয়া দিয়াছিলেন। তিনি বারংবার বলিয়াছেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধীদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়াছে, যাহারা দলের ক্ষতিসাধন করিতেছেন; কিন্তু তাহাতেও তাহাদের দৌরাত্ম্য কমে নাই। তাহারা হেন কোনো অপরাধ নাই যাহা করিতেছেন না। যেই হেতু তাহারা অবৈধ আয়-উপার্জনের সহিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই ছলেবলে প্রশাসনকেও তাহারা ম্যানেজ করিয়া চলিতেছেন। তাহাদের কারণে কোনো কোনো এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনে দেখা দিয়াছে অস্থিরতা ও স্থবিরতা। তাহারা হইতেছেন দুধের মাছি, সুসময়ের বন্ধু। দুঃসময়ে তাহাদের কাউকে সরকারের পক্ষে পাওয়া যাইবে না। বিপদ দেখিলেই তাহারা কাটিয়া পড়িবেন। তাহা না হইলে তাহারা কেন বলিতেছেন নির্বাচনের দরকার নাই?

এই মতলববাজদের প্রতিহত করা না হইলে ভবিষ্যতে আরো অঘটন ঘটিবে। স্থানীয় নির্বাচনেই তাহারা যেইভাবে বাড়াবাড়ি করিতেছেন তাহাতে সাধারণ মানুষ বিস্মিত। জাতীয় নির্বাচনে তাহাদের ভূমিকা কী হইবে তাহা লইয়া অনেকেই চিন্তিত। যিনি বা যাহারা এমন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলিতেছেন, তাহারা শেষ কবে আয়নায় নিজের চেহারা দেখিয়াছেন এই প্রশ্নও চলিয়া আসে। আল্লাহর ওয়াস্তে এই সকল লোক এখনই প্রতিহত করুন। আমরাও আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর কথার সহিত একমত হইয়া বলিতে চাই, এই অনুপ্রবেশকারীরা দলের জন্য শুধু ক্ষতিরই কারণ হইয়া দাঁড়াইয়াছেন। দলের জনপ্রিয়তা অর্জনে তাহাদের কোনো অবদান তো নাই-ই, বরং তাহারা দলের জন্য বোঝা স্বরূপ।

 এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অপরিণামদর্শী বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবীতে ছড়াইয়া পড়িয়াছে। দেশের বাহিরে যাহারা আমাদের নির্বাচনের প্রতি দৃষ্টি রাখিতেছেন, ইহাতে তাহাদের কী প্রতিক্রিয়া হইবে তাহা চিন্তা করিবার কি কেহ আছেন? দেশের প্রধান নির্বাহী আজ কতটা অসহায়! নিজ দলে অনুপ্রবেশকারীদের কার্যকলাপ প্রকারান্তরে সরকারবিরোধীদেরই সহায়তা করিয়া চলিয়াছে! ক্ষমতাসীন দলের ভিতরে তাহারা হইয়া উঠিয়াছেন ফিফথ কলাম বা পঞ্চম বাহিনী। তাহারা প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙাইয়া নিজেদের আখের গুছাইয়া লইতেছেন। অথচ তিনি না থাকিলে তাহারা কোথায় গিয়া দাঁড়াইবেন? সেই বুুদ্ধিটুকুও কি এই ডেসপারেট বা দুরাচার ও বেপরোয়া ব্যক্তিদের নাই!

ইত্তেফাক/এএইচপি