স্টেডিয়ামের বাইরে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশ সমর্থকের দেখা পাওয়া গেল। লাল সবুজের টানে ইংল্যান্ডের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন তারা। এদের মধ্যে আছেন সাউদাম্পটন প্রবাসী বাঙালি এবং বাংলাদেশ থেকে আসা ক্রিকেট পাগল অনেক দর্শক।
ইংল্যান্ডের দক্ষিণে উপকূলীয় শহর সাউদাম্পটনে টাইগার সমর্থকদের সমাগম শুরু হয়েছিল রবিবার থেকেই। বলা যায়, প্রিয় দলের ম্যাচকে ঘিরে স্থানীয় বাঙালি পরিবারগুলোর মধ্যে উত্সবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রবিবার বাংলাদেশের অনুশীলনের নিউজ কাভার করে ফেরার সময় স্টেডিয়ামের বাইরে দেখা মেলে এরকম কয়েকজনের। তারা ম্যাচের আগেরদিন মাঠে এসেছেন শুধু মাশরাফি, সাকিবদের এক নজর দেখার আশায়। এ সুযোগে যদি কারো অটোগ্রাফ শিকার করা যায়, সেটা বাড়তি পাওনা।
রবিবার বিকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র পলিগন রোডে দেখা হয় অনেক বাঙালির সঙ্গে। লন্ডন থেকে আসা লিটন জানালেন, তারা বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য আগে থেকেই টিকিট কিনে রেখেছিলেন। লিটন নিজেও বাংলাদেশের সবগুলো ম্যাচের টিকিট কিনে রেখেছেন। হোটেলে ফেরার সময় কথা হয় বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক মৌলভীবাজারের সজীবের সঙ্গে। মজার এক তথ্য জানালেন তিনি। তার শ্বশুরবাড়ির প্রায় ৫০ জন আত্মীয় সোমবার বাংলাদেশের খেলা দেখার জন্য সাউদাম্পটনে এসেছেন।
গতকাল সকাল থেকেই সাউদাম্পটনের আকাশে ছিল কালো মেঘ। হঠাত্ বৃষ্টি নামতেই খেলা দেখতে আসা অনেকের মনটা খারাপ হয়ে গেল। বৃষ্টির জন্য টসও হলো ১০ মিনিট দেরিতে।
রোজ বোল স্টেডিয়ামের প্রেস বক্স এক অভিনব জায়গায়। মাঠের উত্তর দিকে বিলাসবহুল হোটেল হিলটন। ঐ হোটেলের চতুর্থ তলায় স্টেডিয়ামের প্রেস বক্স। হোটেলের লবি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের প্রেস বক্সে প্রবেশ করতে হয়। প্রেস বক্স থেকে গ্যালারির দিকে তাকিয়ে হতাশ হতে হলো। ১৭ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে প্রায় অর্ধেকই ছিল ফাঁকা। তারপরও গ্যালারিতে আধিক্য ছিল বাংলাদেশ সমর্থকদেরই। সারাক্ষণ নেচে গেয়ে তারা প্রিয় বাংলাদেশকে সমর্থন জুগিয়ে গেছেন। স্টেডিয়ামের বাইরে ব্রিটিশ হকারদের বাংলাদেশি পতাকা বিক্রি করতে দেখে অন্যরকম মজা পেয়েছেন অনেকে।
হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হোম গ্রাউন্ড এটি। তাই একে হ্যাম্পশায়ার ক্রিকেট গ্রাউন্ডও বলা হয়ে থাকে। একসময় একে এজিস বোল নামেও ডাকা হতো। ট্যাক্সিচালকদের কাছে এই নামটাই বেশি চেনা। বহু নামে পরিচিত হলেও এ মাঠের যাত্রা কিন্তু খুব বেশিদিন আগে হয়নি। ২০০১ থেকে এখানে ক্রিকেট খেলা হচ্ছে। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের প্রথম ওডিআই ম্যাচ দিয়ে এ মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু হয়েছিল।
২০০৪ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পাঁচটি ম্যাচ হয়েছিল এ মাঠে। তার মধ্যে বাংলাদেশেরও একটি ম্যাচ ছিল। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঐ ম্যাচটি বড় ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারই প্রথমবারের মতো এ মাঠে বিশ্বকাপ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট পাঁচটি ম্যাচ হচ্ছে এবার। এর আগে ১৯৮৩ ও ১৯৯৯ বিশ্বকাপে সাউদাম্পটনে বিশ্বকাপের ভেন্যু থাকলেও ম্যাচগুলো হয়েছিল নর্থল্যান্ডস রোড গ্রাউন্ড নামে অন্য একটি স্টেডিয়ামে।
